বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্পের নীতি ও আচরণ দেশের পরিস্থিতিকে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুক্তরাষ্ট্রে “অরাজকতা, অসংযম ও বিচক্ষণতার অভাবের প্রতীক” হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় ভার্জিনিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্জার এবং নিউ জার্সির প্রার্থী মিকি শেরিলের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওবামা। নরফোকের ওল্ড ডমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সেই সমাবেশে উচ্ছ্বসিত জনতার উদ্দেশে তিনি তীব্র ভাষায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেন।
ওবামা বলেন, “আমাদের দেশ এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে নীতি ও মূল্যবোধ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউস প্রতিদিন এমন সব উদাহরণ দিচ্ছে যা শৃঙ্খলার অভাব, বিচারবোধহীনতা এবং নিছক বেপরোয়াতার প্রতীক।”
তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি, বিশেষ করে শুল্ক আরোপ এবং বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে ‘অরাজক’ ও ‘ভুল কৌশল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ওবামা বলেন, “রিপাবলিকানরা জানত যে ট্রাম্প সীমা ছাড়াচ্ছেন, তবু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি— যা দেশের জন্য ভয়াবহ উদাহরণ।”
ওবামা রসিক ভঙ্গিতে হোয়াইট হাউসের পরিস্থিতিকে হ্যালোইনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “এখানে প্রতিদিনই যেন হ্যালোইন চলছে— তবে আনন্দ নয়, শুধু বিভ্রম আর ভয়।”
ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের গুরুতর বিষয়গুলোতে মনোযোগ না দিয়ে তিনি বরং এমন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত, যেমন— রোজ গার্ডেনের মাটি যেন জুতায় না লাগে, কিংবা ৩০ মিলিয়ন ডলারের নৃত্যকক্ষ নির্মাণ।”
বক্তৃতার শেষাংশে ওবামা মার্কিন নাগরিকদের আহ্বান জানান— “গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সত্য, মানবিকতা ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। গণতন্ত্র একদিনে ধ্বংস হয় না; এটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায় যখন নাগরিকেরা নীরব থাকে। তাই এখনই সময় সঠিকের পক্ষে দাঁড়ানোর।”





