গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুজন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস আরেক ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী সোমবার জানায়, হামাসের কাছ থেকে মরদেহের কফিন রেডক্রসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে। গাজায় থাকা সেনাদের কাছে এটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান শান্তি আলোচনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গাজায় মারা যাওয়া মোট ২৮ জন জিম্মির মরদেহ একে একে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ১৩ অক্টোবর জীবিত ২০ জন জিম্মি ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হামাসের আলোচক খলিল আল–হায়া সম্প্রতি বলেছেন, মরদেহ খুঁজে বের করা চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া, কারণ অনেক দখলদার গাজার ভূখণ্ডকে বদলে দিয়েছে। এছাড়া যারা মরদেহ দাফন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধের সময় মারা গেছেন। অনেকের দাফন স্থানের সঠিক তথ্যও পাওয়া যায়নি।
মরদেহ উদ্ধার ও হস্তান্তরের কাজে সহায়তার জন্য মিশরের কারিগরি দলকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ইসরাইল। উদ্ধার কার্যক্রমে এক্সকাভেটর, ট্রাক ও অন্যান্য যান্ত্রিক সহায়তার মাধ্যমে মরদেহগুলো নিরাপদে উদ্ধার করা হচ্ছে। দুই পক্ষই মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মরদেহ হস্তান্তরের এই ধারা দুটি পক্ষের মধ্যে সাময়িক বিশ্বাস ও চলমান শান্তি আলোচনার প্রমাণ। এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহযোগিতার সূচনা করতে পারে।
হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বা নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের নিরাপদ হস্তান্তর দুই পক্ষের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, গাজার সাধারণ জনগণও এ ধরনের পদক্ষেপে আশ্বস্ত হচ্ছে।





