নিয়মিত খেজুর খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি পেটের সুস্থতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই মনে করেন স্বাস্থ্যকর খাবার মানে বেশি খরচ—আসলে তা নয়। খুব সামান্য টাকায় পাওয়া এই ফলটিই হতে পারে প্রতিদিনের পুষ্টির সহজ উপায়। খেজুরে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, প্রাকৃতিক শর্করা, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ আরও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে কী উপকার হতে পারে?
পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের শুরুতে খালি পেটে দুটো খেজুর খাওয়া শরীরকে নানা দিক থেকে উপকৃত করতে পারে। কারণ ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর দ্রুত পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
১) সকালের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে
অনেকেই দিনের শুরুতে চা বা কফির মাধ্যমে শক্তি পেতে চান, কিন্তু সেই শক্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা শরীরে ধীরে ধীরে শোষিত হয়, ফলে দীর্ঘসময় শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে।
২) মনোযোগ ও ফোকাস বাড়াতে পারে
খেজুরের ফাইবার, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে। এতে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ হয়, যা সকালের কাজকর্মে একাগ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
৩) অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়
খেজুরের ফাইবার হজম হতে সময় নেয়। খালি পেটে খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরতি অনুভূত হয়। এতে অকারণে স্ন্যাকস বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে।
৪) মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ কমাতে পারে
যাঁরা বেশি মিষ্টি খেতে চান, তাঁদের জন্য খেজুর প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। এতে পাওয়া মিষ্টতা কৃত্রিম চিনির ক্ষতি ছাড়াই মনের ইচ্ছা মেটাতে সাহায্য করে, আর তা দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
৫) হজমব্যবস্থা সচল রাখতে সাহায্য করে
খেজুরে থাকা ফাইবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিভিন্ন পেটের অস্বস্তি কমতে পারে।
খেজুর একটি সহজলভ্য ফল, কিন্তু এর পুষ্টিগুণ অনেক সমৃদ্ধ। প্রতিদিন সকালে দুইটি খেজুর খাওয়া শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি, ভালো হজম, নিয়ন্ত্রিত ক্ষুধা—সবকিছুই দিতে পারে স্বাভাবিকভাবে ও প্রাকৃতিক উপায়ে।





