স্বপ্নদোষ—ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হওয়াকেই সাধারণভাবে এভাবে বলা হয়। এটি হয়নি এমন ছেলে-মেয়ে পাওয়া কঠিন। এ বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই ভুল ধারণা রয়েছে। লজ্জা ও অস্বস্তির কারণে অনেকে কথা বলতেও পারেন না। তবে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিশোর বয়সে এটি বেশি হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে। শুধু ছেলেদের নয়, মেয়েদেরও স্বপ্নদোষ হতে পারে। এ বিষয়ে কথা বলেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসক ও সহায় হেলথের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা।
তিনি বলেন, স্বপ্নদোষ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো প্রয়োজন নেই। নানা ভুল ধারণার কারণে অনেকেই আতঙ্কিত হন, কিন্তু এটি মানবদেহের স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। এতে লজ্জা বা অপরাধবোধের কিছুই নেই। সাধারণত কিশোর বয়সে স্বপ্নদোষ শুরু হয়, কারও ক্ষেত্রে ৯-১০ বছর বয়সেও প্রথমবার হতে পারে।
- স্বপ্নদোষ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে এনিয়ে অনেক রকমের ধারণা প্রচলিত আছে। এ কারণে সবাই দুশ্চিন্তা করেন। কিন্তু এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এতে লজ্জার কিছু নেই। এতে অপরাধবোধেরও কিছু নেই। স্বপ্নদোষ সাধারণত কিশোরকালীন বয়সে শুরু হয়। তবে, কারোর তা ৯-১০ বছর বয়সেও প্রথম হতে পারে। কিশোরকালীন সময়ে এটা বেশি হয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে আসে।
- কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসক এবং সহায় হেলথের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা
স্বপ্নদোষ কী?
ডা. তাসনিম জারা ব্যাখ্যা করে বলেন, ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হওয়াকেই স্বপ্নদোষ বা স্বপ্নস্খলন বলা হয়। অনেকেই মনে করেন এটি শুধু ছেলেদের হয়—এই ধারণা ভুল। ছেলেমেয়ে উভয়েরই এটি হতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ হলে যোনি ভেজা অনুভূত হতে পারে।
স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক?
তিনি বলেন, স্বপ্নদোষ স্বাভাবিক। কোনো লজ্জা বা উদ্বেগের বিষয় নেই। কারও সপ্তাহে দুবার হয়, কারও মাসে একবার—ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। এমনও আছে, কেউ সারাজীবনে স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা নাও পেতে পারে—এটিও স্বাভাবিক।
ঘনঘন স্বপ্নদোষ হলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, শক্তি কমে যায় বা বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়—এ ধরনের প্রচলিত ধারণাগুলোও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানান তিনি।
অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তার দরকার নেই
ডা. তাসনিম জারা বলেন, স্বপ্নদোষের কারণে শরীর দুর্বল হয় না বা এটি কোনো অসুস্থতার লক্ষণ নয়। কিশোর বয়সে দেহে যেসব পরিবর্তন আসে, স্বপ্নদোষ তারই একটি অংশ—একেবারেই স্বাভাবিক।
তবে কেউ এ নিয়ে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একজন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং কার্যকর কৌশল শেখাতে পারবেন।





