বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাজ, সমালোচনা ও প্রত্যাশা—যা বললেন শামীম হাসান সরকার

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার গত বছরজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন, আর সেই ব্যস্ততার ধারাবাহিকতা নতুন বছরেও থামেনি। সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে একের পর এক নাটকের কাজ নিয়ে নিয়মিত শুটিংয়ে সময় দিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কাজ, সমালোচনা, ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেতা।

শামীম হাসান সরকার বলেন, গত বছর তার জন্য শেখার ও এগিয়ে যাওয়ার একটি সময় ছিল। তিনি জানান, “আমি সবকিছুর জন্য শুকরিয়া আদায় করি। গত বছর অনেক ভালো ভালো কাজ করেছি। কিছু কাজ দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করেছে, কিছু কাজ দিয়ে হয়তো পুরোপুরি দর্শকদের মন জয় করতে পারিনি। তবুও আমি চেষ্টা করে যাব।” নিজের কাজ নিয়ে পাওয়া সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথাও জানান তিনি। বলেন, সমালোচনাগুলো তাকে আরও সচেতন করেছে, আর এই পথে তার পরিবার সবসময় পাশে আছে। ভালো কাজ করার আত্মবিশ্বাসও তার মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিক কাজের প্রসঙ্গে শামীম হাসান সরকার জানান, অল্প কিছুদিন আগে তিনি একটি নতুন নাটকের শুটিং শেষ করেছেন, যার নাম ‘কাশ্মীরি বউ’। নাটকটির গল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, কাশ্মীর ভ্রমণের সময় পরিচয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় একটি প্রেমের গল্প, যা শেষ পর্যন্ত বিয়েতে রূপ নেয়। এরপর কাশ্মীরি এক তরুণী গ্রামে এসে বসবাস শুরু করে। হানিয়া ও আমির—এই দুই চরিত্রকে কেন্দ্র করেই নাটকের মূল কমেডি ও প্রেমের গল্প এগিয়েছে। কাশ্মীরি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেবা জান্নাত। এই নাটকের মাধ্যমে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা। শামীম জানান, ডিসেম্বর মাসজুড়ে প্রায় ১০টি নাটকের কাজ নিয়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন এবং সব গল্পই তার পছন্দের ছিল।

ছোটপর্দায় নিয়মিত থাকলেও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা সিনেমায় এখনও দেখা যায়নি—এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শামীম হাসান সরকার বলেন, “হয়তো আমাকে এখনো যোগ্য মনে করা হয়নি বলেই ডাক আসেনি। ডাকলে তো বুঝতাম আমাকে যোগ্য মনে করেছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওটিটিতে কাজ করার প্রবল আগ্রহ তার রয়েছে। কেউ প্রস্তাব দিলে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হবেন বলেও জানান তিনি। নিয়মিত নাটক করলেও ওটিটির কাজ নিয়ে তিনি আশাবাদী।

কেন এখনো ওটিটিতে কাজের সুযোগ আসেনি—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যারা নিয়মিত ওটিটির কাজ করেন, তাদের সঙ্গে তার খুব একটা ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা আড্ডা নেই। পরিচয়ের অভাবকেই তিনি এর একটি কারণ হিসেবে দেখছেন। এটাকে নিজের ব্যর্থতাও বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি শামীম বলেন, অনেকের কাছেই তার বদনাম বেশি—এমন অনুভূতিও তার মধ্যে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত কাজ করলেও শুরুতে ইউটিউবকেন্দ্রিক কাজের কারণে এক শ্রেণির মানুষ তাকে ছোট করার চেষ্টা করেছে। তার ভাষায়, “হয়তো তারাই নিজেদের বানানো গল্প দিয়ে আমাকে জিইয়ে রাখতে চায়। একই গল্প বারবার বলা এক অর্থে হাস্যকর।” তিনি জানান, এসবের মাঝেও তিনি নিজেকে ভাঙছেন, অভিনয় শিখছেন এবং চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে একটি শ্রেণি নানা উপায়ে তাকে পিছিয়ে দিতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শামীম হাসান সরকার বলেন, একসময় এসব বদনামের কারণে অনেক পরিচালকের সঙ্গে তার কাজের সুযোগ হয়নি। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি বলেন, “এখন যাদের সঙ্গে কাজ করি, তারা সহকর্মীর চেয়েও বেশি বন্ধু হয়ে যান। পরের কাজের জন্য আগেই শিডিউল দিতে হয়।” তার বিশ্বাস, যারা তাকে নিয়ে এখনো ভাবেন না, তাদের সঙ্গে একবার কাজ করার সুযোগ পেলে তারাও নিয়মিত তাকে কাস্ট করবেন।

নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন—এই প্রশ্নে শামীম বলেন, তার ফেসবুক দেখলেই মানুষ অনেক কিছু বুঝতে পারবে। যারা তার সঙ্গে মেশেন, তারা তাকে ভালোভাবেই চেনেন। তিনি জানান, আগের তুলনায় এখন তার কাজ অনেক বেশি পরিপক্ব। তিনি বলেন, “একবার কেউ আমাকে কাস্টিং করলে, তিনি বুঝতে পারবেন আমি কেমন মানুষ, কেমন অভিনেতা।”

নিজের আত্মবিশ্বাসের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শামীম হাসান সরকার বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে বদলাচ্ছেন এবং কাজ শিখছেন। তার মতে, একজন ওটিটি পরিচালক মূলত ভালো অভিনয়শিল্পীকেই কাস্ট করতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “একবার যদি ওটিটিতে কাজ শুরু করতে পারি, ইনশাআল্লাহ নিয়মিতই কাজ করে যাব। তখন অনেকের ভুল ধারণা ভেঙে যাবে।”

শেয়ার করুন