বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নতুন পথের খোঁজে চিত্রাঙ্গদা সিং

অভিনয়ের প্রশংসা থাকলেও বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের কাতারে চিত্রাঙ্গদা সিংয়ের নাম খুব একটা উচ্চারিত হয়নি। ‘হাজারও খোয়াইশে অ্যায়সি’, ‘দেশি বয়েজ’, ‘হাউজফুল-৫’, ‘আই মি অউর ম্যায়’, ‘সাহেব বিবি অউর গ্যাংস্টার’, ‘বাজার’, ‘বব বিশ্বাস’ কিংবা ‘পরিক্রমা’—বিভিন্ন ঘরানার ছবিতে কাজ করলেও মূলধারার আলো তার ওপর তেমনভাবে পড়েনি। নির্মাতাদের আগ্রহের তালিকায় তিনি অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন। তবে এই বাস্তবতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।

দীর্ঘ সময়ের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বড় পর্দার পাশাপাশি এখন তিনি মনোযোগ দিচ্ছেন ছোট পর্দা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কাজেও। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ‘রাত আকেলি হ্যায়: দ্য বানসাল মার্ডারস’-এ অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাকে আবারও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন চিত্রাঙ্গদা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যে কোনো ভালো কাজ আত্মবিশ্বাস জোগায়। এও সত্যি, যেসব সিনেমায় অভিনয় করে আশার আলো দেখেছিলাম, তা কিছুটা হলেও হতাশ করেছে। তবে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন করে পথচলা শুরু করেছি। আর সেই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে দর্শকরা। কিছুটা হলেও অবাক হয়েছি এটা দেখে যে, সমসাময়িক শিল্পীদের চেয়ে তুলনামূলক কম কাজ করার পরও দর্শক আমাকে ভুলে যাননি। এখনও তারা আমার কাজগুলোকে দারুণভাবে গ্রহণ করছেন। এর প্রমাণ মিলেছে “রাত আকেলি হ্যায়: দ্য বানসাল মার্ডারস” ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুবাদে। তাই চেষ্টা করে যাচ্ছি, এমন আরও কিছু ভিন্ন ধাঁচের কাজের মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছাকাছি থাকার।’

তার মতে, ‘আমি বারবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সেই চেষ্টাই করে গেছি। কারণ অনেক কিছুর পর এটাই বুঝেছি, মানুষ ভালো কাজ ভুলে যায় না। আমি খুশি যে, আমার কাজের সংখ্যা কম হলেও মানুষ তা মনে রেখেছে। হয়তো আরও কাজ করতে পারতাম। কিন্তু সংখ্যা বাড়িয়ে কতটুকু লাভ হতো জানি না। তাই সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে ভালো কাজ বেছে নেওয়া শ্রেয় বলে মনে করেছি, যা নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। কিন্তু আমি তাদের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করতে পারিনি।’

কাজের বিষয়ে নিজস্ব ভাবনা নিয়ে চিত্রাঙ্গদা আরও বলেছেন, মানসম্পন্ন কাজই স্থায়ী হয়, সেটি যে মাধ্যমেই হোক না কেন, তা নিয়ে আলোচনা চলবেই। সিনেমা ও সিরিজও তার ব্যতিক্রম নয়। পর্দায় এমন চরিত্র এমনভাবে তুলে ধরা উচিত, যা মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারবে। জানি এটি সহজ নয়, কিন্তু সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে যতক্ষণ না দর্শক মনে কড়া নাড়া যায়।’

 

অনেক কাজ না করে ধীরগতিতে ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে চান তিনি। তাই ক্যারিয়ারের ২০ বছর পার হলেও কোনো হতাশা ছুতে পারেনি বলেন জানান চিত্রাঙ্গদা।

তিনি বলেন, ‘ধীরগতিতে চলায় বিশ্বাসী ছিলাম। তাই আজ ক্যারিয়ারের দুই দশক পূর্ণ করেও সব রকম হতাশা থেকে দূরে সরে থাকতে পারছি। বুঝতে পারছি, অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে আমার যে ভাবনা, তা ভুল ছিল না। আমার ধারণা, দর্শকও বুঝতে পারেন, কাজের সংখ্যা তারকাদের বিচার হয় না। গুটিকয়েক ভালো কাজই তাদের মনে স্থায়ী আসন গড়ে দেয়।’ সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

শেয়ার করুন