গত ২৩ নভেম্বর থেকে অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর ভোরের আলো ফুটার সঙ্গে ভেসে এলো এক বেদনা-বিঁধোর খবর। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার প্রয়াণ ঘটে। আপসহীন এই নেত্রীর বিদায়ে সারাদেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ তারকারা।
দেশের অভিনয়, সঙ্গীত শিল্পী ও নির্মাতারাও সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে এই দেশনেত্রীকে স্মরণ করছেন। ঢাকাই নায়ক শাকিব খান লিখেছেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
নগরবাউল জেমস লিখেছেন, “শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা, বাংলাদেশের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত করেন। আমিন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী লিখেছেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার বিদেহী আত্মা চিরশান্তিতে থাকুক। আমিন।” অপু বিশ্বাস মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই চিরবিদায় যেন মহাকালের সাক্ষী হয়ে রইলো। একজন মহিয়সী নারীর প্রস্থান যেন যুগে যুগে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে লেখা থাকবে।”
নুসরাত ফারিয়া লিখেছেন, “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।” চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ ও চিত্রনায়িকা পূজা চেরি তার ছবি প্রকাশ করে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা লিখেছেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের শক্তি, ধৈর্য ও নেতৃত্বের প্রতীক। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, কিন্তু কখনো দেশ ছাড়েননি। এজন্যই তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদান কখনও ভোলা সম্ভব নয়।”
জয়া আহসান লিখেছেন, “বেগম খালেদা জিয়া বড় দুঃসময়ে বিদায় নিলেন। সামনে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য মানুষ অপেক্ষা করছে। তাঁর উপস্থিতির মূল্যই ছিল অসামান্য।”
শাসন বিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বেগম জিয়া ছিলেন প্রধান একটি চরিত্র, সাহসে ও নেতৃত্বে উজ্জ্বল। তাঁর সঙ্গে দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি অধ্যায় শেষ হলো। তাঁর আত্মা চির প্রশান্তি লাভ করুক।
অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন লিখেছেন, “নব্বই দশকে বেড়ে ওঠা আমাদের প্রজন্ম আপনাকে মনে রাখবে ভালো-মন্দ নানা কারণে। তবে আমি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের শাসনামলের সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার কথা মনে রাখতে চাই। বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া, আপনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর, ন্যান্সি, মনির খান, প্রিন্স মাহমুদ, তাসরিফ খানসহ আরও অনেকে। অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, আরশ খান, পিয়া জান্নাতুল, নির্মাতা ও বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্মাতা মাবরুর রসিদ বান্নাহ, অনন্য মামুন, জাহিদ প্রীতমসহ আরও অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন সোহানা সাবা, আশনা হাবিব ভাবনা, জায়েদ খান, সাইমন সাদিক। শোক জানিয়েছেন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তুজা ও সাকিব আল হাসানও।
উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা খনম পুতুল। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে সেনাপ্রধান ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ফার্স্ট লেডি থেকে শুরু করে দেশের রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে তার পদচারণা ছিল দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল।





