আরিয়ান খানের প্রযোজিত সিরিজ় ‘দ্য ব্যাড্স অফ বলিউড’-এর একটি আইটেম গান ‘গফুর’ নিয়ে সম্প্রতি বলিপাড়ায় জোর আলোচনা চলছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, ওই গানে পারফর্ম করার জন্য অভিনেত্রী তমন্না ভাটিয়া প্রায় ৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলিউডে আইটেম গানের পারিশ্রমিকের অঙ্ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডে আইটেম নাচের ধরণ ও গুরুত্ব যেমন বদলেছে, তেমনই বদলেছে তার আর্থিক মূল্যও।
এক সময় বলিউডে আইটেম গানের সঙ্গে মূলধারার অভিনেত্রীদের দেখা যেত খুব কমই। তখন এই ধরনের নাচ মূলত বিশেষ কিছু পারফর্মারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগেই সেই ধারা ভেঙে যায়। ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন, ক্যাটরিনা কইফ, করিনা কপূর খানের মতো প্রথম সারির অভিনেত্রীরা আইটেম গানে নাচ করে প্রমাণ করেছেন, গল্পের বাইরে থেকেও একটি গান সিনেমার জনপ্রিয়তায় বড় ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে আইটেম নাচ বলিউডের প্রচার কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রথমেই উঠে আসে তমন্না ভাটিয়ার নাম। দক্ষিণী ছবির পাশাপাশি হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতেও তাঁর আইটেম গানের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। ‘কাভালা’, ‘আজ কি রাত’ কিংবা সাম্প্রতিক ‘গফুর’ একের পর এক গান দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শোনা যাচ্ছে, ‘গফুর’ গানটির জন্যই তিনি প্রায় ৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন, যা আইটেম গানের ক্ষেত্রে অন্যতম উচ্চ অঙ্ক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বলিউডে আইটেম নাচ মানেই অনেকের মনে আজও ভেসে ওঠে মলাইকা অরোরার ছবি। ‘দিল সে’ ছবির ‘ছইয়া ছইয়া’ গানে চলন্ত ট্রেনের উপর শাহরুখ খানের সঙ্গে তাঁর নাচ আজও আইকনিক। পরে ‘মুন্নি বদনাম হুই’-এর মতো গানে তিনি আবারও জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠেন। ইন্ডাস্ট্রির খবর অনুযায়ী, একটি আইটেম গানের জন্য মলাইকা প্রায় ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।
নাচের দক্ষতার জন্য আলাদা করে পরিচিত আরেক নাম নোরা ফতেহি। যদিও তিনি কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন, তবে তাঁর মূল পরিচিতি তৈরি হয়েছে আইটেম গান দিয়েই। ‘দিলবার’, ‘গর্মি’, ‘নাচ মেরি রানি’ কিংবা ‘মানিকে মাগে হিতে’ প্রায় প্রতিটি গানই চার্টবাস্টার হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, একটি আইটেম গানে পারফর্ম করতে নোরা ২ থেকে ৩ কোটি টাকার মধ্যে পারিশ্রমিক নেন।
শ্রীলঙ্কা থেকে বলিউডে জায়গা করে নেওয়া জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ়ও আইটেম গানের ক্ষেত্রে বেশ চাহিদাসম্পন্ন। তাঁর সাবলীল নাচ এবং প্রাণবন্ত উপস্থিতি বহু গানকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। ‘লট লগ গয়ে’, ‘ইম্মি ইম্মি’ কিংবা নতুন করে তৈরি ‘এক দো তিন’ সব ক্ষেত্রেই প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। জানা যায়, একটি আইটেম গানের জন্য জ্যাকলিন প্রায় ৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।
ক্যাটরিনা কইফ বলিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের একজন হলেও তাঁর আইটেম নাচ আলাদা করে ইতিহাস তৈরি করেছে। ‘শীলা কি জওয়ানি’ ও ‘চিকনি চমেলি’ গান দুটি আজও দর্শকের স্মৃতিতে টাটকা। বিভিন্ন সময় তিনি আইটেম গানের জন্য ৫০ লক্ষ থেকে শুরু করে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়েছেন বলে জানা যায়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বলিউডে তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয়।
করিনা কপূর খানও আইটেম গানের ক্ষেত্রে অন্যতম সফল নাম। ‘ফেভিকল সে’, ‘দিল মেরা মুফত কা’, ‘বেবো ম্যায় বেবো’র মতো গানগুলিতে তাঁর আত্মবিশ্বাসী অভিব্যক্তি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর অনুযায়ী, ‘হলকট জওয়ানি’ গানের জন্য তিনি প্রায় ৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন।
বলিউড ছাড়িয়ে এখন হলিউডে কাজ করলেও প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার আইটেম নাচ আজও সমান জনপ্রিয়। ‘বাবলি বদমাশ হুই’ কিংবা ‘রাম চাহে লীলা চাহে’ গানের পারফরম্যান্স দর্শক এখনও ভুলতে পারেননি। এক সময় আইটেম গানে নাচার জন্য তিনি প্রায় ৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি করতেন বলে শোনা যায়।
দক্ষিণী ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী সমান্থা রুথ প্রভুর ক্ষেত্রেও আইটেম গানের পারিশ্রমিক নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। ‘পুষ্পা’ ছবির ‘উ অন্তভা’ গান তাঁর পরিচিত ইমেজ একেবারে বদলে দেয়। ওই একটিমাত্র নাচের জন্যই তিনি নাকি ৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন, যা দক্ষিণী ও হিন্দি— দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই আলোড়ন তোলে।
সবশেষে উল্লেখযোগ্য নাম সানি লিওন। আইটেম গানের মাধ্যমে বলিউডে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন তিনি। ‘বেবি ডল’, ‘পিঙ্ক লিপস’, ‘লায়লা’র মতো গান তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, একটি আইটেম গানে নাচার জন্য সানি প্রায় ১.৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, বলিউডে আইটেম গান এখন আর শুধু বাড়তি আকর্ষণ নয়, বরং বড় বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জনপ্রিয়তা, তারকাখ্যাতি ও দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার উপর নির্ভর করেই এই পারিশ্রমিকের অঙ্ক দিন দিন আরও বাড়ছে।





