শোনা যাচ্ছে, আগামী বছর থেকে দেব নিয়মিতভাবে বছরে তিনটি করে ছবি প্রযোজনার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি উৎসবকেন্দ্রিক মুক্তির ক্যালেন্ডার ঘিরে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, দুর্গাপুজো ও বড়দিন—এই দুই উৎসবে চারটি করে ছবি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত ২০২৬ সালের বাংলা ছবির সম্ভাব্য মুক্তি-সূচি সাজানোর লক্ষ্যেই শনিবার ইম্পা (ইস্ট ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন)-এর কার্যালয়ে ফের এক দফা বৈঠকে বসেন পরিচালক ও প্রযোজকেরা। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত ছাড়াও স্বরূপ বিশ্বাস, দেব, শ্রীকান্ত মোহতা, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, রানা সরকার, নীলরতন দত্ত, ফিরদৌসুল হাসানসহ ইন্ডাস্ট্রির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বৈঠক শেষে আনন্দবাজার ডট কম-কে স্বরূপ বিশ্বাস জানান, উৎসবের সময় দর্শক সাধারণত বড় আকারের, জমকালো ছবিই দেখতে চান। সেই কারণেই পুজো বা বড়দিনের মতো উপলক্ষে বেশি বাজেটের ছবি রাখার বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে এই মুহূর্তে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

একই সঙ্গে তিনি জানান, পুজো ও বড়দিনের জন্য ছবির একটি প্রাথমিক কাঠামো ঠিক হয়ে গেলেও, সারা বছরে উৎসবকাল হিসেবে ধরা ১১টি নির্দিষ্ট সপ্তাহে কোন কোন ছবি মুক্তি পাবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। অর্থাৎ পুরো বছরের রিলিজ ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করতে আরও সময় লাগবে।
যদিও স্বরূপ বিশ্বাস নির্দিষ্ট নাম বা ছবির তালিকা প্রকাশ করেননি, তবে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের সূত্র বলছে, পুজো ও বড়দিনে তিনটির বদলে চারটি করে ছবি মুক্তি দেওয়ার দিকেই ঝোঁক বেশি। উৎসব বাদে বছরের অন্যান্য সময়ে তিনটি করে ছবি মুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া দেব ২০২৬ সালে নিজে তিনটি ছবি প্রযোজনা করতে পারেন বলে জোর আলোচনা চলছে। স্বাধীনতা দিবস, দুর্গাপুজো এবং বড়দিন এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁকে বড় পর্দায় দেখা যেতে পারে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, চলতি বছরের পুজোয় দেব ও জিতকে মুখোমুখি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের পাশাপাশি পুজোর রিলিজে থাকতে পারেন শ্রীকান্ত মোহতা এবং নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জুটি। অন্যদিকে শীতের মরসুমে দেবের সঙ্গে রানা সরকার, নীলরতন দত্ত ও ফিরদৌসুল হাসানের মতো প্রযোজকদের ছবিও মুক্তি পেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে উৎসবের জন্য ছবির বাজেট নিয়েও বৈঠকে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, পুজো ও বড়দিনের মতো বড় উৎসবে অন্তত দুই কোটি টাকার বাজেটের ছবি তৈরির দিকেই প্রযোজকদের আগ্রহ বেশি। যদিও এই সিদ্ধান্তও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। উল্লেখ্য, এই সংক্রান্ত খবর প্রথম প্রকাশ করেছিল আনন্দবাজার ডট কম।





