গ্যাংস্টারদের কখনওই বালোচিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা উচিত নয় এমনই মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী মীর ইয়ার। তাঁর দাবি, বালোচ জনগণ স্বাধীনতার দাবিতে সংগ্রাম করলেও মুম্বই হামলার মতো ঘটনাকে তাঁরা কোনও দিন সমর্থন করেননি।
আদিত্য ধরের পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাকে ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। এই ছবিতে নাকি বালোচিস্তানকে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে বালোচ অঞ্চল থেকেই। মানবাধিকার কর্মী মীর ইয়ার বালোচ অভিযোগ করেন, ছবিতে বালোচ জনগোষ্ঠীর চরিত্রায়ন অত্যন্ত নেতিবাচক এমনকি ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও বিরূপভাবে দেখানো হয়েছে।
মীরের বক্তব্য, দেশপ্রেমে বিশ্বাসী বালোচদের সিনেমায় বিকৃত রূপ দেওয়া হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন ছবির একটি দৃশ্যে দেখা যায়, টেলিভিশনে ২৬/১১ মুম্বই হামলার ফুটেজ দেখে আনন্দ প্রকাশ করছে অর্জুন রামপাল ও অক্ষয় খন্না অভিনীত চরিত্র। মীর ইয়ারের দাবি, অপরাধীদের কোনও সময়েই বালোচ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি বলা যায় না। বরং বালোচিস্তানের মানুষও পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদের শিকার, তাই বিস্ফোরণ বা হামলার ঘটনায় আনন্দ করার প্রশ্নই ওঠে না।
এক বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, বালোচদের বিরুদ্ধে আইএসআই-এর সঙ্গে হাত মিলানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বালোচ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের চিত্রণও ছবিতে ঠিকভাবে হয়নি। তাঁর কথায়, অস্ত্রসস্ত্রে জোর না থাকায় সংগ্রামীদের লড়াই দুর্বল দেখায় না হলে পাকিস্তানকে তারা বহু আগেই পরাস্ত করতে পারত।
মীর ইয়ারের সমালোচনা ‘ধুরন্ধর’ নির্মাণের আগে পর্যাপ্ত গবেষণা করা হয়নি। বালোচিস্তানের ইতিহাস, আন্দোলন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিছুই যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এমনকি সঞ্জয় দত্ত অভিনীত চরিত্র চৌধরি আসলামের সংলাপ “কুমিরের উপর ভরসা করা যায়, বালোচদের নয়” কেও তিনি অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আদিত্য ধরের এই ছবিতে অভিনয় করেছেন রণবীর সিংহ, অর্জুন রামপাল, অক্ষয় খন্না এবং আর মাধবন।





