রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল, ১৩ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য

চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে রাজধানীর রমনা মডেল থানা এলাকায় দায়ের করা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কাজ আবারও বিলম্বিত হয়েছে। আদালত আগামী ১৩ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় থাকলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম খন্দকার কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ কারণে আদালত নতুন তারিখ ঠিক করেন।

মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন—সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার ক্ষেত্রে করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয় আদালত। এর পরদিন রাতে তার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম হত্যা মামলার বাদী হন।

সালমান শাহের লাশ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ওই মামলা হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের আবেদন করলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে ঘটনার কারণ আত্মহত্যা বলা হয়। ১৯৯৭ সালের ২৫ নভেম্বর সিএমএম আদালত প্রতিবেদন গ্রহণ করলেও কমরউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী তা প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ ১১ বছর পর, ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনের মূল সিদ্ধান্তও ছিল সালমান শাহর মৃত্যু অপমৃত্যু।

কমরউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী নীলা চৌধুরী হত্যা মামলার নতুন বাদী হন এবং ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন।

পরবর্তীতে পিবিআই ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিলে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। এরপর ২০২২ সালের ১২ জুন ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়।

শেয়ার করুন