বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ কুসুম শিকদার একসময় ছোট ও বড় পর্দায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। ‘লাল টিপ’, ‘গহিনে শব্দ’ ও ‘শঙ্খচিল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর ‘শরতের জবা’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবারো রূপালি পর্দায় ফিরলেও, এরপর আবার দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কুসুম শিকদারের উপস্থিতি খুব সীমিত ছিল। তার এই দীর্ঘ নীরবতা ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। অবশেষে নিজেই তার অবস্থান প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে কুসুম শিকদার তার দীর্ঘ বিরতির কারণ, কাজের পছন্দ এবং ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কেন নতুন কোনো প্রকল্পে দেখা যায়নি। উপস্থাপক যখন প্রশ্ন করেন, “হঠাৎ করেই কোথায় হারিয়ে গেলেন?” কুসুম শিকদার উত্তর দেন, “হারিয়ে যাইনি। যদি কাজের কথা বলেন এখন নাটকে আমার আগ্রহ নেই। সিনেমার অনেক প্রস্তাব এসেছে। চাইলে অবশ্যই কাজ করতে পারতাম।” তিনি আরও বলেন, অভিনয় থেকে দূরে থাকার অর্থ কাজ এড়ানো নয়, বরং ভালো এবং মানসম্পন্ন প্রজেক্টের জন্য অপেক্ষা করা। পর্দায় নিয়মিত থাকা তার প্রধান লক্ষ্য নয়; বরং ভালো গল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়া তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কুসুম শিকদার বলেন, “হ্যাঁ বলেও কাজ করতে পারতাম। কিন্তু আমি একটু পারফেকশনিস্ট। প্রায় সব প্রস্তাবে এমন খুঁত দেখেছি যেখানে প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয়। তাই সেগুলো এড়িয়েছি।” তিনি উল্লেখ করেন, “‘শরতের জবা’ মুক্তির পর অন্তত ১২টি সিনেমার প্রস্তাব এসেছে। সবই ফিরিয়ে দিয়েছি। তবে গল্প এবং প্রজেক্ট উপযুক্ত হলে অবশ্যই অংশগ্রহণ করতাম।” অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমি ধীর গতির মানুষ। কাজ করার সময় আমি ধীরে ধীরে করি। বিশ্বাস করি, ধীরলয়ে কাজ করলে মানও ভালো হয়। ‘শরতের জবা’ করতে আমার দুই বছর লেগেছে, এবং গল্প লেখা থাকলে সময় আরও বেশি লাগে।” শেষে কুসুম শিকদার বলেন, “আমি চেষ্টা করি মন সতেজ রাখতে, মিথ্যা না বলার এবং কৃতজ্ঞ থাকার। ভেতরে মুগ্ধ হওয়ার ক্ষমতা এবং ভালোবাসার শক্তি থাকলে তা বাইরেও প্রতিফলিত হয়। এভাবেই মানুষ সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে।”





