প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই নানা জল্পনা–কল্পনা চলছিল। তাকে ঘিরে মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই কথাই সত্যে পরিণত হলোচলে গেলেন প্রবীণ অভিনেতা ধর্মেন্দ্র সিং দেওল। সোমবার নিজের বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্রে ভারতের সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সোমবার সকালেই অভিনেতার মৃত্যু ঘটে। তার শেষকৃত্য মুম্বাইয়ের ‘পবনহংস’ শ্মশানে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বলিউডের বিভিন্ন তারকা পৌঁছাতে শুরু করেছেন। শ্মশানের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এনডিটিভি, পিংকভিলা, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে—সকাল থেকেই গুঞ্জন ছড়ানোর আগেই ভিলে পার্লে শ্মশানে পৌঁছে যান তার স্ত্রী হেমা মালিনী। শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন তার মেয়ে ঈশা দেওল, অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, আমির খান, সালমান খানসহ অসংখ্য বলিউড তারকা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো film-industry–তে। প্রযোজক-পরিচালক করণ জোহর লিখেছেন, ‘একটি যুগের পরিসমাপ্তি।’
ভারতীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়—ধর্মেন্দ্রর বাসা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স শ্মশানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। এরপরই একে একে ক্যামেরায় ধরা দেন অনেক তারকা, যারা তার শেষযাত্রায় উপস্থিত হতে যাচ্ছিলেন। সকালে অভিনেতার বাড়ির সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, এরপর থেকেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভারতের একাধিক নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম বিষয়টিকে সত্য বলে জানিয়েছে।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ছয় দশকের উজ্জ্বল এক ইতিহাসের অবসান হলো। কিছুদিন আগেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তখনই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। সুস্থ হয়ে পরে বাড়ি ফিরলেও এবার আর ফিরে দাঁড়াতে পারেননি।
দীর্ঘ ছয় দশকের অভিনয়জীবনে রোমান্টিক চরিত্র থেকে অ্যাকশন হিরো ও কমেডির ভূমিকায় সমান দক্ষতায় অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র। ১৯৬০ সালে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে একের পর এক ছবিতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। অভিনীত ছবির সংখ্যা তিন শতাধিক। ১৯৯৭ সালে পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১২ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করে।





