বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জকসু নির্বাচন: মেশিনে ভোট গণণা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদে কমিশনের ব্যাখ্যা

আশিকুর রহমান (জবি প্রতিনিধি) :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে মেশিনে ভোট গণণা কেন্দ্রিক সৃষ্ট বিতর্ককে নিছক ভুল ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছে নির্বাচন কমিশন। একটি নির্দিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রতিবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মক ভোটিং-১ এ ব্যবহৃত একটি ব্যালট পেপার ভুলবশত অব্যবহৃত ব্যালটগুলোর সাথে একই খামে রাখা হয়েছিল। গত ৪ জানুয়ারি মক ভোটিং-২ চলাকালীন খামটি খোলা হলে ওই ব্যবহৃত ব্যালটটি (৩ পৃষ্ঠার মধ্যে মাত্র ১ পৃষ্ঠা) একজন প্রার্থীর হাতে পড়ে। কমিশন এটিকে একটি অনিচ্ছাকৃত করণিক ভুল হিসেবে দাবি করেছে।
আগামীকাল ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি গ্রুপ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় জকসু নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ার পর থেকে তারা অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছে। একটি বিচ্ছিন্ন ও অনিচ্ছাকৃত ভুলকে কেন্দ্র করে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।”
কমিশন জানিয়েছে, একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে তারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। একটি মহলের অপপ্রচারে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামীকালই অনুষ্ঠিত হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন।
এর আগে, আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে জকসু নির্বাচনে ব্যবহৃত ভোট গণনা মেশিনে ডেমো ভোটের ফলাফলে অসংগতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে প্যানেলের নেতারা বলেন, একটি মিটিংয়ে ডাকা হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন প্যানেলের প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সামনে ডেমো ভোট গণনা দেখানো হয়। সেখানে আমরা স্পষ্ট অসংগতি লক্ষ্য করি। একটি মেশিনে এক ধরনের ফলাফল, অন্য মেশিনে ভিন্ন ফলাফল দেখা যায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানায় সেনসিটিভিটি কম-বেশি হওয়ার কারণে এমন হতে পারে এবং ভোট গণনায় দুই শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ।
শেয়ার করুন