শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাকসুর আল্টিমেটাম: পদত্যাগের দাবিতে বিভাগে বিভাগে খোঁজখবর নিলেন সালাহউদ্দিন আম্মার

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের দেওয়া আল্টিমেটামের পর রোববার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ছয়জন ডিনের বিষয়টি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও আওয়ামীপন্থী হিসেবে চিহ্নিত ছয়জন ডিনকে রোববারের মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
এই ঘোষণার পর রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সালাহউদ্দিন আম্মার তার সহযোগীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে যান। সেখানে তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সভাপতিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিনদের বর্তমান অবস্থান ও তারা লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
বিভাগীয় সভাপতিরা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ডিন আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তারা আরও জানান, অভিযুক্ত ছয়জন ডিন রোববার ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ মৌখিকভাবে ছুটি নেওয়ার কথা বললেও, বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিতভাবে ছুটি নেওয়ার কোনো আবেদন জমা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন আম্মার।
এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রলীগ নামধারী শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার অভিযোগ, দীর্ঘ দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে রাকসু এখন বাধ্য হয়ে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
যেসব ছয়জন ডিনকে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলা হয়েছে তারা হলেন—
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু নাসের ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এইচ এম সেলিম রেজা।
এদিকে, রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যেই তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রক্টর মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, যেসব ছয়জন ডিনের বিষয়ে আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, তাদের দায়িত্বকাল গত ১৭ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেয়ার করুন