অপু দাস (রাজশাহী):
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে অনুষ্ঠিত ডীনস্ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ শুধু পুরস্কার প্রদান নয়—এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ও গবেষণাধর্মী অগ্রগতির একটি প্রতীকী ঘটনাও বটে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবিষয়ক অর্জনকে সামনে এনে অনুষদীয় উৎকর্ষতার এক বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরা হয়।
অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাঁদের সম্মাননা দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতার যুগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই ধরনের স্বীকৃতি একদিকে গবেষকরা মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে, অন্যদিকে গবেষণা পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে।
উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ্ হাসান নকীব এ প্রসঙ্গে বলেন, এমন আয়োজন শিক্ষক সমাজকে আরও উৎসাহিত করে এবং গবেষণার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
এ বছরের পুরস্কার পায় বি.এসসি. (সম্মান) পরীক্ষায় উৎকৃষ্ট ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা। প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার সময়, এ স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের একাডেমিক পরিকল্পনায় একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে। অনুষদের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীরা যে ক্রমেই উন্নতির দিকে এগোচ্ছে, এই স্বীকৃতি তা আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য—প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন ও প্রফেসর ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান। তাঁদের উপস্থিতি শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার ও স্বচ্ছ একাডেমিক ব্যবস্থাপনার প্রতি প্রশাসনের অঙ্গীকারকে সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সক্রিয় ভূমিকা ভবিষ্যতে গবেষণা তহবিল, আন্তর্জাতিক প্রকল্প এবং নতুন শিক্ষামূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এ এইচ এম সেলিম রেজা সমাপনী বক্তব্যে জানান, এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়—অনুষদের সমষ্টিগত অগ্রগতির একটি প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর মতে, এই আয়োজন শিক্ষকদের গবেষণা-চেতনা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ আরও বৃদ্ধি করবে।
ডীনস্ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এনে দিয়েছে—উন্নত গবেষণা, একাডেমিক প্রতিযোগিতা এবং মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে প্রতিষ্ঠানটি আরও দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে। শিক্ষক–শিক্ষার্থী উভয়ের অর্জনকে মূল্যায়ন করার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপ্রেরণা ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে একাডেমিক গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
সমগ্র আয়োজনটি তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নচিন্তা, গবেষণা-প্রবণতা এবং গুণগত শিক্ষার স্বপ্নকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে—যা ভবিষ্যতের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গবেষণামুখী, গতিশীল এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সহায়তা করবে।





