রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাবি শিক্ষার্থীদের উপরে দুর্বৃত্তদের পরিকল্পিত হামলা: আহত ৩

 স্টাফ রিপোর্টার,  ( রাজশাহী ):
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজলা ফটকের কাছে বুধবার রাত ১১টার দিকে একদল মুখোশধারী ও হেলমেট পরা দুর্বৃত্ত শিক্ষার্থীদের ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। ‘কাজলা ক্যান্টিন’-এ খাবার খেতে থাকা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় কমপক্ষে তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আল ফারাবী ও তাহমিদ আহমেদ বখশী এবং নাট্যকলা বিভাগের মিনহাজ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা প্রথমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনের ছবি দেখিয়ে নির্দিষ্ট একজনকে খুঁজতে থাকে। এরপরই লোহার রড, রামদা, হাতুড়ি ও ছুরি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত হানতে থাকে। এসময় আল ফারাবী ও বখশীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ঢাকা মেটাল রোডের বিভিন্ন স্থানে ফেলে যায়। পরে ফারাবীকে বেতার মাঠের পাশ থেকে এবং বখশীকে হবিবুর রহমান হলের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। মিনহাজকে ঘটনাস্থলেই অন্য শিক্ষার্থীরা সহযোগিতায় নিরাপদে নিয়ে আসেন।
আহতরা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। জানা গেছে, আল ফারাবী আগে মাদার বখশ হল শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আহত শিক্ষার্থী বখশী বলেন,
“আমরা সবাই রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে মুখোশধারী কয়েকজন আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাকে রিকশায় তুলে নিয়ে অন্ধকার স্থানে বসিয়ে নানা প্রশ্ন করা হয়। আমি জানাই, আমি কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নই। পরে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।”
প্রত্যক্ষদর্শী আরেকজন জানান,
“হামলাকারীরা প্রথমে আল ফারাবীর ছবি দেখায়। এরপরই তারা হামলা শুরু করে এবং দুইজনকে তুলে নিয়ে যায়। তাদের হাতে লোহার রড, রামদা, ছুরিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন,
“কাজলার আশেপাশে আমাদের শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হয়েছেন। দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনাটিকে শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিত ও আতঙ্কজনক হামলা হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি—রাতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়ানো ও হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শেয়ার করুন