সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকায় দুই দিনে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায়

দুই দিনের ব্যবধানে ঢাকার খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি দামের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে প্রায় ৪০ টাকা। ব্যবসায়ীরা দামের এই হঠাৎ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতি উল্লেখ করছেন। তাদের ভাষ্য, পেঁয়াজ আসা প্রধান জেলাগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ দাম বৃদ্ধি ঘটেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর, কচুখেত এবং ভাসানটেকসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় পেঁয়াজ কেজিতে ১৪০–১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এটি দুদিন আগের ১১০–১২০ টাকার তুলনায় প্রায় ৪০ টাকা বেশি।

কাজীপাড়া কিচেন মার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শামীম হোসেন বলেন, “এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১৬০ টাকা শুনে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। পরে চারটি দোকান ঘুরে দেখলাম, সব জায়গায় দাম ১৫০–১৬০ টাকা।” তিনি আরও বলেন, দুই দিনের মধ্যে এমন দ্রুত দাম বৃদ্ধি অসম্ভব মনে হচ্ছে। বাজার নিয়মিত মনিটরিং করে সরকারকে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের দাম শুনে অনেক ক্রেতাই হতবাক হয়েছেন, কেউ কেউ তর্কেও জড়িয়েছেন। ভাসানটেক কিচেন মার্কেটের শহীদ জেনারেল স্টোরের মালিক মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, পরিবহন খরচসহ পেঁয়াজ কেজিতে ১৪৫ টাকায় কেনা হয়েছে এবং আকারভেদে ১৫০–১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের মেসার্স মাতৃ ভাণ্ডারের মালিক সজীব শেখ বলেন, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও পাবনার হাটে দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ কেজিতে ৪০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর ফলে তারা কেজিতে ১৩৮–১৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন। সরবরাহ কম থাকায় তাদের ৮০ বস্তার বদলে মাত্র ২০ বস্তা কিনতে হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে এবং আমদানি শুরু হলে এক মাসের মধ্যে দাম স্বাভাবিক হবে।

শ্যামবাজার পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আমদানিকারক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ বলেন, “বাজারে ঘাটতির কারণে দাম বাড়ছে। দুই মাস ধরে আমদানির চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনও অনুমতি পাইনি। প্রতিবেশী দেশে পেঁয়াজ বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ১০ টাকা। অনুমতি পেলে খরচ মিলিয়ে কেজিতে ৩০–৩৫ টাকায় বিক্রি করা যেত।” তিনি আশা করেন, নতুন পেঁয়াজ আসার পর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হবে।

এদিকে, রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজি পাওয়া গেলেও দাম কমছে না। চলতি বছর সবজির বাজার তুলনামূলকভাবে বেশি। মুলা ও পেঁপে ছাড়া অন্যান্য সবজি এখন কেজিতে ৬০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার বাজারে বিক্রির দাম ছিল—ফুলকপি ৩০–৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০–৪০, বেগুন ৬০–৮০, মুলা ৪০, ঝিঙা ৬০–৮০, ঢ্যাঁড়স ৭০–৮০, করলা ৮০, শসা ৬০–৮০, গাজর ৬০–৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০–৫০, বরবটি ৫০–৬০, কাঁচা মরিচ ৬০–৮০, পেঁপে ৪০ এবং নতুন আলু ৬০–৮০ টাকা কেজিতে।

শেয়ার করুন