শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কেন স্বর্ণ রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ: বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ রিজার্ভ বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভে স্বর্ণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। ২০২৪ সালে, বিভিন্ন উৎস অনুযায়ী মোট আনুমানিক ৩৬,০০০ টন স্বর্ণ মজুদ ছিল। এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রা রিজার্ভের একটি বড় অংশ, কারণ স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদে “নিরাপদ সম্পদ” (safe‑haven asset) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সর্বাধিক স্বর্ণ মজু প্রভু দেশসমূহ নিচে বিশ্বের কিছু মূল দেশ ও তাদের আনুমানিক স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ দেওয়া হলো (World Gold Council এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎস অনুযায়ী।

বিশ্বের ভিন্নদেশের স্বর্ণ মজুদের পরিমান: যুক্তরাষ্ট্র  ৮১৩৩.৫ টন, জার্মানি ৩৩৫১.৫ টন, ইতালি ২৪৫১.৮ টন, ফ্রান্স ২৪৩৭ টন, রাশিয়া ২৩৩০ টন, চীন ২২৮০–২৩০০ টন, সুইজারল্যান্ড ১০৩৯.৯ টন প্রায়, ভারত ৮০০–৮৮০ টন, বাংলাদেশ ১৪–১৪.২৮ টন।

স্বর্ণের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক দেশ স্বর্ণকে তাদের মুদ্রা রিজার্ভকে বৈচিত্র্য দান করার একটি অপশন হিসেবে ব্যবহার করে, বিশেষ করে যখন অন্যান্য মুদ্রা বা সম্পদ অস্থিরতা বা ঝুঁকিতে থাকে।  বিশেষ করে উত্তাম্পটে (geopolitical risk) বা বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতায় স্বর্ণ মজু করা একটি সচেতন কৌশল: দেশগুলোর কাছে অপ্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এক ধরণের “সুরক্ষা পরত” হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মজু করা স্বর্ণ প্রায় ১৪–১৪.২৮ টন।  অন্য উৎসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এই পরিমাণ স্বর্ণের মজু নিয়ে বিশ্বে ৬৬তম অবস্থানে রয়েছে। আরও একটি প্রতিবেদনে বলেছে, এ স্বর্ণ রিজার্ভ বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বমোট রিজার্ভের প্রায় ৭ শতাংশ গঠিত।  ২০২৪‑২৫ সময়ের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, জুন ২০২৪‑এ Bangladesh Bank‑এর মজুত ছিল ৪৫৮,৫৪২.৩৪ ট্রয় আউন্স স্বর্ণ।  ১৪ টন স্বর্ণ মজু রেখে বাংলাদেশ একটি তুলনামূলকভাবে ছোট অবস্থানে আছে, বিশেষত বড় দেশগুলোর তুলনায় যারা হাজার-হাজার টন স্বর্ণ মজুদ রাখে।

 

স্বর্ণ রিজার্ভে এই পরিমাণ দেশকে কিছুটা সীমাবদ্ধ “সুরক্ষা” প্রদান করতে পারে, কিন্তু বড় অর্থনৈতিক শক বা বৈদেশিক মুদ্রা অস্থিরতার ক্ষেত্রে পুরোপুরি বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। তবুও, এই পরিমাণ স্বর্ণ রিজার্ভ বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আস্থাশীল মুদ্রাগত সমর্থন দেয়, যা আন্তর্জাতিক লেনদেন ও মুদ্রা রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণকে রিজার্ভ প্রকৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ধরে রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও রাশিয়া’র মতো দেশগুলোতে হাজার টনের মতো স্বর্ণ মজু রয়েছে। বাংলাদেশের স্বর্ণ রিজার্ভ তুলনামূলকভাবে খুব সীমিত (১৪ টন), এবং এটি বিশ্ব মাপকাঠিতে মাঝ‑নিচ স্তরের অবস্থান নির্দেশ করে (৬৬তম)। যদিও বাংলাদেশে স্বর্ণের পরিমাণ সীমিত, তবুও তা একটি অর্থনৈতিক মজবুত ভিত্তি হিসাবে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে বৈদেশিক রিজার্ভ পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনতে সহায়ক।

শেয়ার করুন