মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিকাশে সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিপিএস: দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন দিগন্ত

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে পারে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী করতে পারে। এই ভাবনা থেকেই বিকাশ তাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস (ডেপোজিট পারমানেন্ট সেভিংস) সেবা সংযুক্ত করেছে। সময়োপযোগী এই সেবার মাধ্যমে মূলধারার ব্যাংকিং এবং প্রান্তিক গ্রাহকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধনও তৈরি হয়েছে।

২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস সেবা দিয়ে যাত্রা শুরু করা বিকাশ-এর ডিজিটাল সেভিংস সেবায় পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক। ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে বিকাশ অ্যাপে মাসিক ডিপিএস-এর পাশাপাশি সাপ্তাহিক ডিপিএসও চালু করা হয়। সাধারণ ডিপিএস ছাড়াও, যারা ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সঞ্চয় করতে চান, তাদের জন্য দুটি ব্যাংকের ইসলামিক ডিপিএসের সুবিধা রয়েছে।

বিকাশ অ্যাপ থেকে খোলা ডিপিএসের ৩০ শতাংশই নারীদের দ্বারা খোলা হয়েছে। এছাড়া, ডিপিএস খোলা গ্রাহকদের ৮০ শতাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে বসবাস করেন। দেশের ৬৪টি জেলায় বিকাশের মাধ্যমে ডিপিএস খোলা হয়েছে, যা প্রমাণ করে প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

মোট ডিপিএসের ৫৫ শতাংশই ব্যাংকিং সময়ের বাইরে খোলা হয়েছে, অর্থাৎ গ্রাহকরা তাদের সুবিধামতো সময়ে সঞ্চয় করতে পারছেন। একটি জরিপে দেখা গেছে, মেয়াদপূর্ণ ডিপিএস থাকা গ্রাহকদের ৯৬ শতাংশই পুনরায় বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ডিপিএস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ডিপিএস খোলার জন্য গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিনে ‘সেভিংস’ আইকনে ট্যাপ করে সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে পারেন। তারা নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হওয়া অর্থ, জমাকৃত টাকার পরিমাণ এবং মুনাফা যে কোনো সময় অ্যাপ থেকে দেখতে পারবেন। মেয়াদ পূর্তিতে মূল অর্থ এবং মুনাফা ছাড়াই ‘ক্যাশ আউট’ করা সম্ভব। গ্রাহকরা ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ চার বছরের মেয়াদে ২৫০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় করতে পারেন, যা সপ্তাহিক বা মাসিক ডিপিএস হিসেবে নেওয়া সম্ভব।

শেয়ার করুন