বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গ্লোবাল ফাইন্যান্সের ‘সি’ গ্রেডে বাংলাদেশ ব্যাংক: মিশ্রমানের পারফরম্যান্স

আন্তর্জাতিক আর্থিক ম্যাগাজিন গ্লোবাল ফাইন্যান্স ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে ‘সি’ গ্রেড দিয়েছে। অর্থাৎ, সংস্থার দৃষ্টিতে, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজকর্ম মিশ্রমানের পর্যায়ে রয়েছে।

‘সেন্ট্রাল ব্যাংকার রিপোর্ট কার্ড ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা—এই চারটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক গড়মানের ফল দেখিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার গভর্নর নন্দলাল উইরাসিংহে ‘এ’ গ্রেড পান, আর ভিয়েতনামের গভর্নর নুয়েন থি হং সর্বোচ্চ ‘এ+’ রেটিং অর্জন করেছেন।

তুলনামূলকভাবে, বাংলাদেশের পূর্ববর্তী গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার ২০২৩ সালে ‘ডি’ গ্রেড পেয়েছিলেন। অর্থাৎ, মনসুরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান কিছুটা উন্নত হলেও এখনও সংস্থার প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি।

আহসান এইচ মনসুর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর গভর্নরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে ছিল। নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তিনি রিপো রেট ৮.৫% থেকে ১০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন। এর ফলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসে, তবে প্রবৃদ্ধি কমে গিয়ে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি ৩.৯% হয়েছে, যা গত দশকের গড় ৬%-এর তুলনায় কম।

মনসুরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সহযোগিতায় তিন বছরের ব্যাংকখাত সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ হ্রাস, দেউলিয়া আইন হালনাগাদ ও ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত, তবে বাস্তব অগ্রগতি ধীর।

গ্লোবাল ফাইন্যান্স প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, নীতিগত দিকনির্দেশনা যুক্তিসঙ্গত হলেও বাস্তবায়নে গতি কম, ফলে জনগণের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ‘সি’ গ্রেড বোঝায় যে নীতিগত ভিত্তি সঠিক হলেও পরিবর্তনের ফল এখনও স্পষ্ট নয়। মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ সংক্রান্ত অনিয়ম ও ডলারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে না আসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

শেয়ার করুন