সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ফাইল ছবি

বিজ্ঞাপনের আড়ালে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে এবং সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুদক পাঁচটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার মূল আসামিদের মধ্যে আছেন— প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ব্যাংক পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন (বিএইচ হারুন), পরিচালক শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ, শায়লা শেলী খান, এএইচএম ফেরদৌস, নব গোপাল বণিক এবং প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত।

ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এতে রয়েছে এমডি এম. রিয়াজুল করিম, ডিএমডি সৈয়দ নওশের আলী, এসভিপি মোশফেক আলম খান এবং মাইন্ডট্রি লিমিটেডের এমডি ইকবাল আল মাহমুদ।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত এইচবিএম ইকবালের নির্দেশে ‘মাইন্ডট্রি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিজ্ঞাপন কার্যক্রমের আড়ালে ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা অগ্রিমভাবে প্রদান করা হয়। সংস্থার দাবি, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রকৃতপক্ষে একটি পরিকল্পিত আত্মসাতের প্রক্রিয়ার অংশ।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় সব অংশ সমন্বয় দেখালেও ৯৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা এখনও অসমন্বয়কৃত এবং আত্মসাৎ হয়েছে। ২০২০ সালে পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা সরাসরি আত্মসাতের প্রমাণও মিলেছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে ১০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি থাকলেও বাস্তবে শুধু ৫০ মিনিট প্রচার করা হয়েছে। মোট ২,৪০০ মিনিটের বিজ্ঞাপন প্রচারের কথা থাকলেও নথিতে পুরো কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, বাস্তবে ১,২০০ মিনিটের প্রচার হয়েছে এবং বাকি অর্ধেক অর্থ আত্মসাত হয়েছে। ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৫টি কার্যাদেশের প্রকৃত খরচ মাত্র ১ কোটি ৮ লাখ টাকা হলেও বিল করা হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।

দুদক জানিয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের টাকা আত্মসাতের এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

শেয়ার করুন