সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাদি হত্যাচেষ্টা: সহযোগী কবির লুকিয়ে ছিলেন স্বজনের বাসায়

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির ওরফে দাঁতভাঙা কবিরকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পাগলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, কবির পটুয়াখালী সদর উপজেলার টিটকাটা এলাকার মৃত মোজাফফরের ছেলে। বর্তমানে তিনি কেরানীগঞ্জের আশ্বিনানগর এলাকায় বসবাস করতেন। হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর কবির আত্মগোপনে চলে যান এবং ফতুল্লার এক স্বজনের বাসায় লুকিয়ে ছিলেন।

র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ নাঈম উল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে বিজয়নগর এলাকায় শরিফ ওসমান হাদি রিকশায় চলাচলের সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির একজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুটিংয়ে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করে—ফয়সল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান (প্রধান শুটার) এবং আলমগীর হোসেন (মোটরসাইকেল চালক)। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ ডিসেম্বর রাতে অভিযান চালিয়ে কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ফয়সল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ৪ ডিসেম্বর কবির ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে ফয়সলের সঙ্গে একাধিকবার প্রবেশ করেন।

র‌্যাব আরও জানায়, ঘটনার পর গ্রেফতার এড়াতে কবিরসহ ফয়সল ও আলমগীর আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কবিরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে এ মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের স্ত্রী ও শ্যালকসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

শেয়ার করুন