সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুব্রত বাইনের মেয়ে আটক

র‌্যাব শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে মোহাম্মদ ফতেহ আলীর মেয়ে সাবিনা ইয়াছমিন সিনথিয়াকে আটক করেছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিনথিয়াকে আটক করা হয়। কুমিল্লায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিবেচনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে মোহাম্মদ ফতেহ আলীকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় এসেছে সুব্রত বাইনের দীর্ঘ অপরাধজীবনের নানা অধ্যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুরে ৬১ বছর বয়সী সুব্রত বাইনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। তার পিতা বিপুল বাইন ওরফে আব্দুল আলীম এবং বাড়ি বরিশাল জেলার আগৈলঝরা থানার জুবারপাড়া এলাকায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে জানা গেছে, অপরাধচক্রের আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পলাতক সহযোগীদের সহায়তার সঙ্গে সাবিনা ইয়াছমিন সিনথিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা করলে সুব্রত বাইন তাদের তালিকায় ছিলেন। ওই বছরই তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ২০০৩ সালে দেশ ছাড়েন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। সেখানে ব্যবসা শুরু ও স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তোলেন।

২০০৮ সালের ১১ অক্টোবর কলকাতা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবার আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০০৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের তাড়ায় নেপাল সীমান্তের কাকরভিটায় গিয়ে নেপালি পুলিশের হাতে আটক হন। বিভিন্ন মামলায় কারাভোগের একপর্যায়ে ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর ঝুমকা কারাগার থেকে সুড়ঙ্গ কেটে আরও ১০ বন্দির সঙ্গে পালিয়ে যান সুব্রত বাইন।

শেয়ার করুন