আওয়ামী লীগের শাসনামলে জেআইসি সেল বা আয়নাঘরে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের মানবতাবিরোধী মামলায় তিন সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে পুলিশ তাদের ট্রাইব্যুনালে আনে। তবে বহনকারী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ জেল-প্রিজন ভ্যানের ছাদ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। ফ্লাইওভারে ওঠার সময় ছাদের এসি ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
হাজির তিন কর্মকর্তা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ ও লে. কর্নেল (অব) মখসুরুল হক।
এইদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিসহ ১৩ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে।
এর আগে ২৩ নভেম্বর এ শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। পলাতকদের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন। স্বেচ্ছায় লড়তে চাইলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না শেখ হাসিনার আইনজীবী হতেন, কিন্তু ৩ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে তা প্রত্যাহার করলে মো. আমির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা তিন কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পলাতকদের হাজিরের জন্য সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
গত ৮ অক্টোবর এই মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।





