বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ৭ ডিসেম্বর

ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল দিন নির্ধারণ করেন। অপর সদস্য হলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুই নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। সাক্ষ্য দেন তার আগের দিন সোমবার (১ ডিসেম্বর)। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালুকদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

মামলার প্রথম সাক্ষী মো. রাইসুল হক, যিনি জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়া শহরের একটি মেসে ছিলেন, বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা ও উসকানিদাতা ইনু। তার কপালেও গুলি লেগেছিল, তবে তিনি বেঁচে যান। ওই সময়ে ছয়জন শহীদ হন। সাক্ষী রাইসুল ট্রাইব্যুনালের কাছে ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

এর আগে, ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একই দিন ইনুর করা রিভিউ আবেদনের শুনানি হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ইনুর আবেদন খারিজ করে দেন। গত ২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

হাসানুল হক ইনু গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনকালে কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এই ঘটনার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।

শেয়ার করুন