বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মেজর সিনহা হত্যা: প্রদীপ–লিয়াকতের ফাঁসি বহাল, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

বহুল আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীর ফাঁসির রায় বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত ৬ আসামির যাবজ্জীবন সাজাও অপরিবর্তিত রেখেছেন।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেন সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রকাশ করেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চাইলে আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

গত ২ জুন হাইকোর্ট প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি যাবজ্জীবন পাওয়া ৬ আসামির সাজা এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশও বহাল রাখা হয়।

যারা যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত— টেকনাফ থানার সাবেক এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, সাগর দেব, কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া এলাকার নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ এবং মো. নিজাম উদ্দিন।

ডেথ রেফারেন্স ও দণ্ডিতদের করা আপিলের শুনানি শেষ হয় গত ২৯ মে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকতের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ঘটনার পাঁচদিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস আদালতে মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর র‌্যাব ১৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে, যেখানে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে অভিহিত করা হয়।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল রায় ঘোষণা করেন। তাতে ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতের ফাঁসি এবং এসআই নন্দদুলাল, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেবসহ আরও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। বাকি সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়। পরে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডিতরা আপিল করেন।

শেয়ার করুন