বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আশুলিয়া হত্যাকাণ্ড মামলায় রাজসাক্ষীর জেরায় ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হকের জেরার সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে প্রসিকিউশন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার তর্কবিতর্ক হয়।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ১১:৩০টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলের সামনে, যার নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ। প্যানেলের অন্য সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

জেরার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান প্রশ্ন করেন, “গত বছরের ৫ আগস্ট থানার কোনো পুলিশ মারা গেছেন কি না।” উত্তরে রাজসাক্ষী আবজালুল জানান, “না, তবে একজন মারা গেছেন, তিনি অন্য ইউনিটের। তদন্তের দায়িত্ব ছিল আমার, কিন্তু শেষ করতে পারিনি।” এই উত্তরে প্রসিকিউশন আপত্তি জানায়, কারণ এটি মামলার প্রাসঙ্গিক নয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তর্কবিতর্ক চলার পর ট্রাইব্যুনাল হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি স্থগিত করেন।

এর আগে, বুধবার ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে হাজির হন আবজালুল। রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি পুরো সত্য উদঘাটনের আশা করেছিলেন, তবে অনেক তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি বলে সমালোচনা হয়েছে। প্রসিকিউশন দাবি করেছেন, তিনি যা জানেন তা আদালতে জানিয়েছেন।

এইদিন সকাল ১১টায় তিনি সাক্ষীর আসনে বসেন এবং পরিচয় দিয়ে জবানবন্দি শুরু করেন। প্রায় ৫০ মিনিটের মধ্যে তার সাক্ষ্য শেষ হয়। যদিও ৫ আগস্টের লাশ পোড়ানোর ঘটনাটি তিনি সরাসরি দেখেননি, তবে পরে ১৫ আগস্ট অন্যান্য সূত্র থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি জানিয়েছেন, লাশ পোড়ানো হয়েছিল ওসি সায়েদ এবং এএসআই বিশ্বজিতের দ্বারা। শেষমেশ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।

২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে মামলার বিষয়গুলো আদালতে প্রকাশ করার অনুমতি পান।

সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পূর্বের দিন ধার্য থাকলেও বিশেষ কারণে তা হয়নি। ৫ নভেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে প্রত্যক্ষদর্শী শাহরিয়ার হোসেন সজিব সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার সামনেই একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং তার বন্ধু সাজ্জাদ হোসেন সজলকেও আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। ৩০ অক্টোবর সাক্ষ্য দেন গুলিবিদ্ধ ভুক্তভোগী সানি মৃধা। এছাড়া, আশুলিয়া থানার এসআই মো. আশরাফুল হাসানও সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে আশুলিয়ার ছয় তরুণ নিহত হন। তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। একজন জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো হয়নি। নৃশংস এই ঘটনার পর ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল এবং কনস্টেবল মুকুল। সাবেক এমপি সাইফুলসহ আরও আটজন এখনও পলাতক।

শেয়ার করুন