বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

সোমবার পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের এই রায়ই মামলার শেষ ধাপ নয়; এই মামলায় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ রয়েছে—আপিল ও রিভিউ।

মামলার প্রেক্ষাপট:
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। মাত্র চার মাস সাতদিনের মধ্যে সোমবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ের বিস্তারিত:

  • শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

  • এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, দুইটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড

  • পুলিশি সহযোগী এবং রাজসাক্ষী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান।

  • দুজন আসামিকে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করে মামলা পরিচালনা।

  • সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ।

মামলার ইতিহাস:

  • প্রথমে কেবল শেখ হাসিনাই আসামি ছিলেন, এরপর এ বছরের মার্চে আরও দুইজনকে আসামি করা হয়।

  • পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম রায়

  • ২০১৩ সালে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তখন জনগণ শাহবাগে বিক্ষোভ করে।

পরবর্তী আইনি ধাপ: আপিল

  • ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা সম্ভব।

  • দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আপিলের জন্য আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতার হতে হবে।

  • রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সময়সীমা।

  • আপিলের ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান।

  • আপিল বিভাগ রায় বহাল, সংশোধন বা বাতিল করতে পারে।

  • সরকারের বা অভিযুক্তের পক্ষ থেকে খালাস বা দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।

পরবর্তী ধাপ: রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা

  • সর্বোচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তির পর রিভিউ আবেদন করা যায়।

  • আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের ত্রুটি ও বিচ্যুতি তুলে ধরতে পারবেন।

  • রিভিউ শুনানি শেষে আপিল রায় বাহাল, সংশোধন বা পুনঃশুনানি হতে পারে।

  • মানবতাবিরোধী মামলায় আপিল করে খালাস পাওয়ার নজির রয়েছে; যেমন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ

  • মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে সাজা মওকুফের আবেদন করতে পারেন।

  • সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দণ্ড মওকুফ, কমানো বা স্থগিত করতে পারেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণ

  • ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।

  • প্রসিকিউটর তামীম জানান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর যেমন এনবিআর এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে।

প্রতিক্রিয়া

  • শেখ হাসিনা এই রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিন্দা করেছেন।

  • তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করার জন্য এই রায় দেওয়া হয়েছে।”

  • ভারতের অবস্থানরত তিনি আগে বিচারকে প্রহসন বলে অভিহিত করেছিলেন এবং সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট:

  • একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।

  • ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে।

  • সেই ট্রাইব্যুনালেই আজকের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

শেয়ার করুন