রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের মামলায় আজ হবে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ১৪তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। এটি ২০২৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়।
রোববার (১৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্ব দেবেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আজ নতুন একজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে। তবে ১৬ নম্বর সাক্ষী, পুলিশ নায়েক আবু বকর সিদ্দিকের জেরার কাজ শেষ না হওয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের প্রশ্ন শেষ করবেন। গত ১৩ নভেম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি ঘটনার আগে ও পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করেন।
এর আগে ১১ নভেম্বর রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী ইমরান আহমেদ ১৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের নেতা, বেরোবির শিক্ষার্থী আকিব রেজা খান। এছাড়া ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিবরণ দেন তিনি।
সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিকতায়, ৬ অক্টোবর নবম দিনের জেরার সময় জবানবন্দি দেন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক—এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল। ২৯ সেপ্টেম্বর অষ্টম দিনে তিনজনের সাক্ষ্য শেষ হয়। ২২ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনে সাক্ষ্য দেন সিয়াম আহসান আয়ান। তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৮ আগস্ট, আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মাধ্যমে। একই দিন সাংবাদিক মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন।
গ্রেফতারকৃত ছয় আসামি—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ—তাদের উপস্থিতিতেই সাক্ষীরা জবানবন্দি দিচ্ছেন।
মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্যে সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে চারজন আইনজীবী সরকারি খরচে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
মামলায় মোট ৬২ জন সাক্ষী রয়েছে। উপযুক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলতে থাকবে।





