মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এনআইডি জালিয়াতি: নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জাল জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১২ নভেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ হালিশহর জসিম কলোনির মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল; সাবেক বন্দর থানা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের সাবেক জন্মনিবন্ধন সহকারী পিন্টু কুমার দে।

এজাহারে বলা হয়েছে, আব্দুল জলিলের বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকত্বের কোনো নথি নেই। তার বাবা-মায়ের নামের ভূমি রেকর্ড, জাতীয়তা সনদ বা মৃত্যুসনদও পাওয়া যায়নি। তবুও ২০১১ সালের ২২ জুলাই তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জাল জন্মনিবন্ধন করেন।

দুদক জানায়, জন্মনিবন্ধন তৈরিতে শুলকবহর ওয়ার্ডের তৎকালীন জন্মনিবন্ধন সহকারী পিন্টু কুমারের সহযোগিতা পান আব্দুল জলিল। পরে ২০১৭ সালের ১৪ মে একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোরশেদ আলম ও জন্মনিবন্ধন সহকারী অশোক কুমার দত্তের জাল সই ব্যবহার করে নতুন একটি জাল সনদ তৈরি করা হয়।

পরবর্তীতে আব্দুল জলিল ওই জাল জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর থানার নির্বাচন অফিসে গিয়ে তৎকালীন থানা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। তদন্তে দেখা যায়, তার এনআইডি রেজিস্ট্রেশন ফর্মের অধিকাংশ ঘর খালি ছিল এবং জাতীয়তা সনদ, ভূমি নথি বা অন্য কোনো বৈধ কাগজ ছাড়া এটি সম্পন্ন করা হয়।

দুদকের ফরেনসিক পরীক্ষায় জন্মনিবন্ধন সনদে থাকা সই জাল প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রেকর্ডে ওই নম্বরের জন্মনিবন্ধনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শেয়ার করুন