মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এবারের নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নয়

নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে আপিল বিভাগ ২০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করবে। আইনজীবীরা আশা করছেন, ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহাল নির্দেশ আসতে পারে। তবে তারা উল্লেখ করছেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নয়।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা সম্ভব নয়, কারণ সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা সংবিধানে বলা আছে। বর্তমানে কোনো সংসদ নেই; এটি ভেঙে গেছে এক বছরের বেশি সময় আগে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য আপিল শুনানি শেষ হয়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাতজনের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ রায়ের দিন ঘোষণা করেন। ১০ দিনের টানা শুনানির পর দেশের সর্বোচ্চ আদালত ঐতিহাসিক এ মামলার রায়ের দিন ঠিক করল।

বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহামদ শিশির মনির। এছাড়া ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

আগের শুনানির দিনগুলো ছিল ২, ৪, ৫, ৬ নভেম্বর এবং ২৯, ২৮, ২৩, ২২ অক্টোবর। আপিলের এই মামলা ২১ অক্টোবর থেকে শুনানি শুরু হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য ২৭ আগস্ট আবেদন করা হয়। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে ১৯৯৬ সালে গৃহীত হয়। ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এ রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে।

শেয়ার করুন