মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে আর লড়বেন না ব্যারিস্টার এম সারওয়ার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও অপহরণের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আটক সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে আর আইনি লড়াই করবেন না ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন। রোববার (৯ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি নিজের নাম প্রত্যাহারের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “১৫ জন সেনা কর্মকর্তার পক্ষে আমরা পাঁচজন আইনজীবী ২২ অক্টোবর ওকালতনামা দাখিল করেছিলাম। পরে বুঝতে পারি, আমি নিজে আগে একটি অভিযোগ করেছিলাম—যা ওই মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “পেশাগত নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী আমি ওই মামলায় ডিফেন্স আইনজীবী হতে পারি না। তাই আইসিটি আইনের বিধান ও পেশাগত নৈতিকতার ভিত্তিতে আমি আবেদন করেছি, ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করেছে।”

মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ আছে। অপর একটি মামলা জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই তিন মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা সহ মোট ৩২ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আটক রয়েছেন।

একটি গুম-নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় ১৭ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম,ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ,কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন,কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন),র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান,লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন,লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম

তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়া র‌্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালক — বেনজীর আহমেদ (পরবর্তীতে আইজিপি), এম খুরশিদ হোসেন ও মো. হারুন-অর-রশিদ পলাতক আছেন। অন্য পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছে: শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম

অন্যদিকে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি করা হয়েছে: বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেদোয়ানুল ইসলাম,মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম,পুলিশের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম,সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান

এদের মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত বর্তমানে সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন, আর বাকি দুইজন পলাতক।

শেয়ার করুন