বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কেশবপুরে বুরুলি খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

কেশবপুরে বুরুলি খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত
যশোর প্রতিনিধি।।মোঃ জুম্মান হোসেনঃ 
যশোর যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুরুলী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বুরুলি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আনুষ্ঠানিকভাবে এই খনন কাজের শুভ সূচনা করেন। যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়নে এই মেগা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে; বুরুলী খাল পুনঃখননের ফলে শত শত একর জমি দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা নির্বিঘ্নে সেচ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক বিপ্লব ঘটাবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার নদী খনন বিপ্লবের কথা স্মরণ করে বলেন, বর্তমান এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে আবারও সেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের কাছে খাল-বিলের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি জেলায় মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবদহ এলাকার ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং খনন কাজ শেষ হলে অবহেলিত কৃষিজমিগুলো পুনরায় চাষের উপযোগী হয়ে উঠবে। উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কাজের সূচনা করেন এবং একটি প্রতীকী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন, যেখানে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন। দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে কেশবপুরসহ আশপাশের বিশাল এলাকার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে -এমনই আশাবাদ এখন ওই অঞ্চলের মানুষের।
শেয়ার করুন