মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রতনদি খাল পুনঃখনন শুরু: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ফিরছে ঐতিহ্য, বদলাবে গলাচিপা পৌরসভার চিত্র

রতনদি খাল পুনঃখনন শুরু: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ফিরছে ঐতিহ্য, বদলাবে গলাচিপা পৌরসভার চিত্র
মোঃ সুমন খান (গলাচিপা) পটুয়াখালী।
রতনদি খাল পুনঃখনন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বদলে যেতে যাচ্ছে গলাচিপা পৌরসভার চিত্র। দীর্ঘদিন দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে নাব্যতা হারানো ঐতিহ্যবাহী এ খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুর থেকে গলাচিপা পৌরসভা এলাকার খেয়াঘাট থেকে কলেজপাড়া পর্যন্ত খালের দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে খালের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সাজন বসাক জানান, জনস্বার্থে এবং সেচব্যবস্থা সচল করার লক্ষ্যে খালের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, “খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।”
জানা গেছে, গলাচিপা-উলানিয়া সংযোগে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারের চলমান খাল-খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে খালটি সম্পূর্ণভাবে খনন ও পুনরুদ্ধার করা হবে। এতে জোয়ারের সময় নদীর পানি খালে প্রবেশ করতে পারবে এবং ভাটার সময় খালের পানি স্বাভাবিকভাবে নদীতে নেমে যাবে। ফলে পৌর এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে নগরবাসী মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় রতনদি খাল ছিল এ অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। খালের স্বচ্ছ পানিতে মানুষ গোসল করত, গৃহস্থালির কাজ করত এবং নৌকা ও ট্রলার চলাচল ছিল নিয়মিত দৃশ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ ও ঐতিহ্য হারায়। নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
বর্তমানে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদারভাবে চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রতনদি খাল আবারও তার পুরোনো রূপ ফিরে পাবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে নৌপথ ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুনরায় সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রশাসনের এ উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হলে গলাচিপা পৌরসভা একটি পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপ নেবে।
শেয়ার করুন