মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যশোরের মনিরামপুরে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, ঘের থেকে লাশ উদ্ধার

যশোরের মনিরামপুরে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, ঘের থেকে লাশ উদ্ধার
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: 
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় আরিফ হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ মাছের ঘেরে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বালিধা গ্রামের বৈরাগী মোড় সংলগ্ন একটি মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিফ বালিধা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যরাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা আরিফকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ডান হাতের কব্জি কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে জখম করার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি আনোয়ার ফকিরের মাছের ঘেরে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
সোমবার সকালে মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ঘেরের পানিতে ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি দ্রুত নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পে ও নিহতের পরিবারকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ঘেরের পাড়ে রক্তের দাগের পাশে একটি দিয়াশলাই ও কিছু নগদ টাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, সম্প্রতি আরিফ একটি দামি মোবাইল ফোন কিনেছিল। সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে এলাকাবাসীর কেউ কেউ জানিয়েছেন, উঠতি বয়সী কিছু কিশোর ও যুবকের সঙ্গে আরিফের মেলামেশা ছিল, যাদের মধ্যে কেউ কেউ নেশা ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কোনো বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করছেন তারা।
নিহতের বাবা আতিয়ার রহমান জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তিনি। সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শেয়ার করুন