এম এ মতিন (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকউলী গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি গরুসহ ছয়জন কৃষকের বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন— চকউলী গ্রামের আনসার আলী, আফজাল হোসেন, আফাজ উদ্দিন (মাস্টার)সহ মোট ছয়টি পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি গোয়ালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, ধান-চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনো রকমে প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘর থেকে একটি কাপড় বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পর্যন্ত বের করতে পারেননি।
অগ্নিকাণ্ডে চারটি গবাদিপশু ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করে। তবে তার আগেই অধিকাংশ ঘরবাড়ি পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো আফাজ উদ্দিন (মাস্টার) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চোখের পলকে আমার সাজানো সংসারটা ছাই হয়ে গেল। আমরা প্রাণে বাঁচলেও ঘরের কিছুই বের করতে পারিনি। আমার চারটি গরু পুড়ে মারা গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই।”
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর-এর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও আখতার জাহান সাথী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি সহায়তা হিসেবে এক বস্তা চাল, দুই বান্ডেল টিন, নগদ সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং ৩০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আরও সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।




