হুইলচেয়ারে চড়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন নূর মিয়া (৫৫)। শারীরিকভাবে হাঁটা-চলায় অক্ষম নুর মিয়াকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঠেলে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন স্ত্রী মাইমুনা বেগম (৪৫)।
প্রায় দেড় যুগ পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এ দম্পতি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বড়খেরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী মাইমুনা বেগম তার অসুস্থ স্বামী নূর মিয়াকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঠেলে ঠেলে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নূর মিয়ার চোখে-মুখে ছিল নাগরিক অধিকার আদায়ের এক তৃপ্তির হাসি।
ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর নূর মিয়া ও তার স্ত্রী মাইমুনা বেগম তাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও ভোট দিতে পারার আনন্দ ব্যক্ত করেন।
তারা জানান, অতীতেও তারা বারবার ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই ভোট না দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের।
জানতে চাইলে নূর মিয়া যুগান্তরকে জানান, ‘আগে কেন্দ্রে গেলেই শুনতাম আমার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বপ্নটা তাই অপূর্ণই থেকে যেত।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় দেড় যুগ পর এবার কোনো বাধা ছাড়াই নিজের পছন্দমতো প্রতীকে ভোট দিতে পেরেছি। এতে আমি খুবই আনন্দিত।’
তিনি বলেন, ‘এত বছর পর এবারই প্রথম নিজের হাতে ব্যালট পেপারে সিল মারলাম। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
মাইমুনা বেগম জানান, তারা পারিবারিকভাবেই শহীদ জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তারা ‘ধানের শীষ’ মার্কার প্রতি তাদের সমর্থন বজায় রেখেছেন। আজ সুষ্ঠু পরিবেশে সেই পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে পেরে তারা বর্তমান নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
নূর মিয়ার ভোটের প্রতি এমন আগ্রহ দেখে কেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও মুগ্ধ হয়েছেন।
ওই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত রামগতি আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজের প্রভাষক আসিফ মাহমুদ রায়হান বলেন, নূর মিয়ার মতো বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।





