মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আলোচিত মা-মেয়ে খুনের ঘটনার মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি সকালে সিরাজদিখান থানার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর এলাকায় একটি ভাড়াঘর থেকে আমেনা বেগম (৩১) ও তার মেয়ে মরিয়ম (৮)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত আমেনা বেগমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে নিহতের পাশের কক্ষে ভাড়া থাকা মোহাম্মদ আলী হোসেন ওরফে আলী (২৮) সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হন। পুলিশ অনুসন্ধানের পর ২৯ জানুয়ারি রাতে গজারিয়ার ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের দাউদকান্দি ব্রিজসংলগ্ন পাখির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। নিহত আমেনা বেগম ও সে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। মোবাইল ফোনের উচ্চশব্দ ও শিশুর কান্নায় তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটত। ঘটনার দিন সকালে মোবাইল ফোনের শব্দ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ‘কাঠের ডাসা’ দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে আলী। মেয়ে মরিয়ম তার মাকে বাঁচাতে কাকুতি-মিনতি করলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের ডাসা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





