কুয়াশার চাদর সরেছে ঠিকই, কিন্তু হিমেল হাওয়ার দাপট কমেনি। উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ে এখন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার দাপট। সকাল গড়িয়ে ঘড়ির কাঁটা ১১টা না ছোঁয়া পর্যন্ত রোদের তেজ অনুভূত হচ্ছে না। আবার বিকাল নামতেই চড়চড়িয়ে নামছে পারদ। খামখেয়ালি এই আবহাওয়ার জাঁতাকলে পড়ে নাজেহাল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষি— সব পক্ষই।
স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মেঘমুক্ত আকাশে সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ সোনালী রোদের দেখা মিললেও স্বস্তি সামান্যই।
উত্তর হরিহরপুর গ্রামের সলিমুদ্দিনের কথায়, হাতে-পায়ে যেন ঠান্ডার কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। এই এলাকায় শীতের বিদায় নিতে দেরি হয়। ফেব্রুয়ারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই হিমেল হাওয়া থেকেই যায়।
আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার মাশুল গুনতে হচ্ছে জনস্বাস্থ্যকে। ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে উপচে পড়ছে রোগীর ভিড়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল জানালেন, প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যময় রূপের কারণে শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঠান্ডা ও গরমের এই সন্ধিক্ষণে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
পরিবেশবিদদের চোখে অবশ্য এই পরিস্থিতি ভিন্ন। আবু মহিউদ্দিনের মতে, এসবই আসলে প্রকৃতির প্রতিশোধ।
তবে কৃষি ক্ষেত্রে আশার কথা শুনিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম। তিনি জানান, টানা পাঁচ দিন রোদের দেখা মেলায় ফসলের রোগবালাইয়ের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে। মাঠের ফসলে এক প্রশান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে এই রোদ।





