মোঃ নুরুল্লাহ (অভয়নগর, যশোর) প্র তিনিধি:
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই কপালিয়া বাজারে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কপালিয়া বাজারে একটি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখাকে লক্ষ্য করে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো বাজার এলাকা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেক দোকানি দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
বিস্ফোরণে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখাটি পরিচালনাকারী ফিজাজ উদ্দীনের দোকানের কাচের দরজা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের সময় দোকানে থাকা দুই কর্মচারীও অক্ষত রয়েছেন।
দোকান মালিক ফিজাজ উদ্দীন জানান, ব্যক্তিগত কারণে তিনি কয়েকদিন ধরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে দোকানে থাকা কর্মচারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, “বাজারে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ লেনদেন করতে আসে। এমন জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আতঙ্কের।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একই বাজার এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের রানা প্রতাপকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই কপালিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অনেকের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের রেশ ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় সৃষ্টি কিংবা এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করতেই এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
কপালিয়া বাজারটি একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্ট শাখায় প্রতিদিন গ্রাহকের আনাগোনা বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেও বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ বাড়ছে।





