নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৫৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং চারজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০:৩০ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থী, তাদের মনোনীত ব্যক্তি ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঋণ খেলাপি, মনোনয়নপত্রে ত্রুটি, হলফনামায় স্বাক্ষর অনুপস্থিতি, আয়কর ও হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া এবং তিতাস গ্যাসের বিল বকেয়া থাকায় কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ):
স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেনের এক শতাংশ স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় এবং সিপিবি প্রার্থী চন্দন সাহার হলফনামায় স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার):
সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লাসহ চারজনের আয়কর বকেয়া থাকায় মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। বিকাল চারটার মধ্যে তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এছাড়া রিপাবলিকান পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের ছয় প্রার্থীর মনোনয়নও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে বাতিল হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ):
সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের ২০ ও ২১ নম্বর তথ্য পূরণ না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা):
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালাউদ্দিন খোকা তিতাস গ্যাসের বিল বকেয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাতেমা মনিরের ভোটার স্বাক্ষর ১ শতাংশ সঠিক না থাকা, গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভুঁইয়ার ফরম ত্রুটিপূর্ণ, সিপিবি ইকলাল হোসেনের তথ্য গোপন এবং সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদের হলফনামায় স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রিপাবলিকান পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মাদ আলীর প্রায় ১৩ লাখ টাকার তিতাস গ্যাস বিল বকেয়ায় তার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। বিকাল চারটায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর):
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন হোল্ডিং ট্যাক্স ও আয়কর বকেয়া থাকায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং বিএনপির নেতা আবু জাফর আহম্মেদ বাবুলের দলীয় মনোনয়নপত্র অনুপস্থিত থাকায়, এবং গণঅধিকার পরিষদের নাহিদের হলফনামায় তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।





