রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমরা থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম, ওসিকে ছাত্রনেতা

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসান-এর বিরুদ্ধে। ঘটনা ঘটে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে থানায়।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহদীর বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদী নিজেকে আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, আমরা আন্দোলন করে গভর্মেন্টকে রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন, আন্দোলনকারী হয়েছেন তো কী হয়েছে? আমাদের এইখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।”

মাহদী হাসানের এই বক্তব্য বিষয়ে জানতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে। পরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি দল থানায় এসে আটক ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেয়।

ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়তে অস্বীকার করলে মাহদী ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। পরে পুলিশের চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, আমি রাগান্বিত হয়ে কথা বলার সময় ‘স্লিপ অব টাং’ হয়ে গেছে বক্তব্যটি। পরে বুঝতে পেরেছি।”

জেলার পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি এবং তারা সঙ্গে কথা বলেছি। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নয়ন ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিল এবং তারা ছবি ও ভিডিও প্রমাণাদি এনেছে। ওই সময় থানার ভেতরে কথাবার্তা হয়েছে এবং ভিডিওটি আমার নজরে এসেছে।”

যাকে আটক করা হয়েছে, সে ছাত্রলীগ নেতা কি না জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, সে একসময় মনে হয় ছাত্রলীগ নেতা ছিল, তবে এখন নেই।”

শেয়ার করুন