মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজগঞ্জের বাগবাটিতে মৃত্তিকা শিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণ

জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাচীনকাল থেকেই মৃত্তিকা শিল্পের জন্য পরিচিত। জেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের পাল পাড়া একসময় মৃত্তিকা শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানকার পাল সম্প্রদায়ের মানুষ মাটির তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করে আসছেন।
বাগবাটি ইউনিয়নের পালপাড়ায় এখনও তৈরি হয় মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলস, চুলা, প্রদীপ, খেলনা ও নান্দনিক শোপিস। একসময় এসব পণ্যের চাহিদা ছিল ব্যাপক। তবে সময়ের পরিবর্তনে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের সহজলভ্যতায় মৃত্তিকা শিল্প আজ চরম সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঁচামাটির সংকট, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণের অভাবে অনেকেই এই পেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলে পাল পাড়ার বহু পরিবার আজ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
তবে এই সংকটের মাঝেও কিছু তরুণ উদ্যোক্তা মৃত্তিকা শিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আধুনিক ডিজাইন, রঙের ব্যবহার এবং অনলাইন বিপণনের মাধ্যমে তারা পাল পাড়ার তৈরি পণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছেন।
পাল পাড়ার এক তরুণ মৃত্তিকা উদ্যোক্তা বলেন, “মাটির কাজ আমাদের বংশের পেশা। এখন আমরা চাই এই শিল্পটা নতুনভাবে সাজিয়ে তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে। সরকারি সহায়তা পেলে আমরা আরও এগোতে পারবো।”
জেলা শিল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, মৃত্তিকা শিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম থাকলেও তা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, বাগবাটি ইউনিয়নের পাল পাড়াকে একটি বিশেষ মৃত্তিকা শিল্প অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প নতুন প্রাণ পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও স্থায়ী বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের বাগবাটি ইউনিয়নের পাল পাড়ার মৃত্তিকা শিল্প শুধু টিকে থাকবেই না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
শেয়ার করুন