মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হিমেল বাতাসে স্থবির রাজশাহীর নগরজীবন

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
উত্তরের হিমেল বাতাসে রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল আটটা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে নগরীর রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। দেরিতে খুলেছে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। এর আগের দিন শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই উত্তরের ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। রাতভর কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় সকালে সূর্যের আলো পাওয়া যায়নি। ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও দিনমজুররা। নগরীর বুধপাড়া এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক সফিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে কাজে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলেও হিমেল বাতাসের কারণে কিছুটা দেরিতে বের হতে হয়েছে। ঠান্ডায় হাত শক্ত হয়ে আসায় গ্লাভস ছাড়া কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই এলাকার স্কুলছাত্রী মাফিন জানায়, স্কুল বন্ধ থাকলেও কোচিংয়ে যেতে হচ্ছে। তার ভাষায়, শুক্রবারের তুলনায় শনিবার শীত অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে এবং সকালে বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
শীতের তীব্রতায় নগরীর বুধপাড়া রেল বস্তিতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন বয়সী মানুষ আগুন জ্বেলে শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন। কেউ চায়ের কাপে হাত গরম করছেন, কেউ কম্বল গায়ে জড়িয়ে বসে আছেন। বস্তিবাসীদের অভিযোগ, এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় গরম কাপড়ের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটছে। এ বিষয়ে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রাজিব খান বলেন, শুক্রবারের তুলনায় শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। উত্তরের হিমেল বাতাস আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শেয়ার করুন