রোববার (১১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদরের হায়দারপুর এলাকায় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। আহত ব্যক্তিকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আহত বাবু চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং পেশায় পারটেক্স মিস্ত্রি। জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বাৎসরিক মাস্কেট্রি অনুশীলন–২০২৫ চলছিল ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অনুশীলনটি ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ডিঙ্গেদাহ ফায়ারিং বাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অনুশীলনের সময় ফায়ারিং রেঞ্জের তিন কিলোমিটার এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছিল।
আহতের খালাতো ভাই রাশেদ অভিযোগ করেছেন, কোনো মাইকিং বা সতর্কবার্তা ছাড়া অনুশীলন চলছিল। তিনি উল্লেখ করেন, আগে পাঁচ বছর আগে এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। আজ তার ভাই বাবু ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে গুলিবিদ্ধ হন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহমেদ শিল্পব অভিযোগ করেন, প্রশাসন ঘটনা চাপানোর চেষ্টা করছে। গত ১০–১৫ বছরে এই ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ৩–৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে দুজন মারা গেছেন। তিনি উচ্চ কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
৬ বিজিবির নায়েক সুবেদার কামরুল ইসলাম জানান, ফায়ারিং বাট জেলা পুলিশের জন্য বরাদ্দ ছিল। অনুশীলনের সময় একজন বেসামরিক ব্যক্তি বুকে গুলি লাগায় আহত হন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, এক্সরে করে দেখা গেছে বুকের বাম পাশে গুলি রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল ও আশঙ্কামুক্ত।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে নিরাপদে আছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর কোনো শঙ্কা নেই।





