অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
জীবনের কঠোর লড়াই, প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অভূতপূর্ব শক্তি এই মনোবলই রাজশাহীর আট নারীর জীবনগাথাকে করেছে অনন্য। বেগম রোকেয়া দিবস–২০২৫ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে আয়োজিত ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা অনুষ্ঠানে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট ও সনদ।
সম্মাননা প্রদান করা হয় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে যেখানে সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে তিনজন এবং জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত হন পাঁচজন অদম্য নারী। অর্থনৈতিক সাফল্য, শিক্ষা ও চাকরি, সফল জননী, নির্যাতন জয় এবং সমাজ উন্নয়ন প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা দেখিয়েছেন অসামান্য দৃঢ়তা।
সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী শ্রেষ্ঠ ‘অদম্য নারী’ নির্বাচিত হন হড়গ্রাম বাজারের মোসা. হাছিনা ইয়াসমিন। সফল জননী ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পান শালবাগান পাওয়ার হাউস মোড়ের মোসা. নুরজাহান বেগম। আর নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে নতুন জীবন নির্মাণের স্বীকৃতি পান দাসপুকুরের মোসা. শারমিন বেগম।
জেলা পর্যায়ে অর্থনৈতিক সাফল্যের শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবেও পুরস্কৃত হন হাছিনা ইয়াসমিন। শিক্ষা ও চাকরিতে বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি পান পুঠিয়ার সুমনা সরকার। সফল জননী ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পান মোহনপুরের মোসা. রাশেদা বেগম। নির্যাতন জয়ী নারী হিসেবে নির্বাচিত হন চারঘাটের মোসা. রাজিয়া খাতুন। আর সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতি পান বাঘার মোসা. আরিফা জেসমিন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমিই রোকেয়া’ এই বাক্যের গভীরতা অনেক। যেই পথ বেগম রোকেয়া শত বছর আগে শুরু করেছিলেন, আজকের নারীরা সেই পথ ধরেই সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন।” তিনি মুক্তিযুদ্ধের নারী বীর তারামন বিবি ও ডা. সিতারা বেগমের মতো আইকনিক নারীদের ভূমিকাও স্মরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, “আজ যাদের গল্প শুনলাম, তা যেন বাস্তবের উপন্যাস। প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নামই অদম্য নারী।” এসময় তিনি অদম্য নারীদের জীবনসংগ্রামের গল্পগুলো ডকুমেন্টারির মাধ্যমে প্রচারের জন্য তথ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শবনম শিরিন।
সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহীর এই আট নারী শুধু সম্মাননা পাননি তারা প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় মনোবলই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের গল্পই ভবিষ্যতের নারীদের জন্য হবে পথ দেখানো আলোর বাতিঘর।





