শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজগঞ্জে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বিধবা নারীকে হত্যা

জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জে দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের টানাপোড়েন থেকে জন্ম নেয় ভয়াবহ পরিণতি। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মোছা. মরিয়ম বেগম (৪৮) নামে এক বিধবা নারীকে হত্যা করেছে তার প্রেমিক মো. সোহেল রানা (৩৫)। ঘটনাটির মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ এবং ঘাতককে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ।
নিহত মরিয়ম বেগম খোকসাবাড়ী হাসপাতাল এলাকার মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। আর গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা সদর উপজেলার গুনেরগাঁতী গ্রামের মো. আসাদুল্লাহর ছেলে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের নলিছাপাড়া এলাকার একটি কলাগাছের নিচ থেকে কলাপাতায় মোড়ানো অবস্থায় মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনা রহস্যজনক হওয়ায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
পুলিশের বিশেষ টিম তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। রাতেই অভিযান চালিয়ে অটোরিকশাচালক মো. সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, প্রায় ২–৩ বছর ধরে মরিয়ম ও সোহেলের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। তারা সপ্তাহে ১-২ বার দেখা করতেন। সম্প্রতি সোহেল মরিয়মকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন, কিন্তু মরিয়ম সময়ক্ষেপণ করেন এবং অন্য একজনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে দাবি করেন সোহেল।
৫ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় কুশাহাটা গ্রামে দেখা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে বিরোধ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সোহেল রানা ওড়না পেঁচিয়ে মরিয়মের গলা চেপে ধরে হত্যা করেন। পরে মরদেহটি কলাগাছের নিচের ড্রেনে ফেলে পালিয়ে যান।
গ্রেফতারকৃত সোহেল রানাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত চলছে।
শেয়ার করুন