শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে ট্রাফিক সপ্তাহ–২০২৫: সড়ক শৃঙ্খলা ও জনসচেতনা বৃদ্ধিতে আরএমপির বিশেষ উদ্যোগ

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহী মহানগরীতে সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ শুরু করেছে ‘ট্রাফিক সপ্তাহ–২০২৫’। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় আরএমপি হেডকোয়ার্টারের সামনে ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুলিশ কমিশনার ড. মোঃ জিল্লুর রহমান। এবারের প্রতিপাদ্য— “সড়কে শৃঙ্খলা মানুন, নিরাপদ রাজশাহী গড়ুন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোঃ নাজমুল হোসেন ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার বলেন, “শৃঙ্খলাবদ্ধ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ট্রাফিক সপ্তাহ নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।”
ট্রাফিক সপ্তাহকে কেন্দ্র করে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মনি চত্বর, লক্ষ্মীপুর মোড়, গৌরহাঙ্গা এবং ভদ্রার মোড়ে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাঁচটি পয়েন্টেই থাকবে আরও ৮০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, যারা সড়ক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন।
এ কার্যক্রমে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। তারা পথচারী ও চালকদের সচেতন করতে মাঠে সারা দিন কাজ করবেন। সপ্তাহজুড়ে যেসব কার্যক্রম। যানবাহনের লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস যাচাই। মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট নিশ্চিতকরণ। পথচারীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান। বিভিন্ন মোড়ে লিফলেট বিতরণ। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি উদ্বোধনের পর নগরীর প্রধান সড়ক ঘুরে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে অংশ নেন বিআরটিএ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, আরডিএ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং যানবাহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
ট্রাফিক সপ্তাহকে কেন্দ্র করে নগরে ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা, মাইকিং, সড়কে অতিরিক্ত সাইনবোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা গেছে। আরএমপি আশা করছে, নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে—যা রাজশাহীর নিরাপদ নগরী গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।
শেয়ার করুন