যশোর ( জেলা প্রতিনিধি ):
যশোর শহরে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে যুবক তানভীর হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার মধ্যরাতে শহরের আনসার ক্যাম্পের পেছনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত তানভীর শংকরপুর হাজারিগেট এলাকার মিন্টুর ছেলে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে আটক করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় তানভীরকে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
রক্তের দাগ অনুসরণ করে পুলিশ সোনা মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়িতে গিয়ে প্রথমে সোনা মিয়াকে আটক করে। পরে ওই বাড়ির ছাদ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বার্মিজ চাকুটি উদ্ধার করা হয়। একই এলাকার আরেক যুবক সাগর ও আটক করে পুলিশ। আটক দুজনকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি কাজী বাবুল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনা উদ্ঘাটনে আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এদিকে, স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, তানভীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ তার প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ৬১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
যশোর কোতোয়ালি থানা সূত্র আরও জানায় যে, এই হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে সন্ধ্যায় শংকরপুর বেলের মাঠ এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে পাঁচটি বোমা ও একটি চাকুসহ নাঈম ও সাজু নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছিল। তারা দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া বোমাগুলো নিহত তানভীরের। অভিযানের সময় তানভীর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ধারণা করা হচ্ছে, পালিয়ে বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পের পেছনে অবস্থান নেওয়ার সময়ই তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পুলিশ বলছে, মাদকবিষয়ক বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাদের প্রাথমিক ধারণা।





